বদলগাছীতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে হাট : বিপাকে স্কুল কর্র্তৃপক্ষ

বদলগাছীতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে হাট : বিপাকে স্কুল কর্র্তৃপক্ষ

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে খাদাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠে গ্রামবাসীকে হাট লাগানোর সুযোগ দিয়ে বিপাকে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হাট লাগিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ লাভবান হচ্ছে না। লাভের ভাগ খাচ্ছে টিয়া। পুরো মাঠ দখল করে গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি ব্যবসা বাণিজ্যর জন্য দোকান গড়ে তোলে। তারা ইচ্ছেমত মাঠের জমি বেচা কেনা করছে। দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। স্কুলের জায়গায় দোকান ঘর করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষকে কেউ তোয়াক্কা করে না। স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, খাদাইল গ্রামের প্রয়াত মৌসুদ আলী ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠ হিসেবে ১৯৫৯ সালে ৩৬ শতক স্কুলের নামে জমি কবলা দেয়। ছাত্র-ছাত্রীরা সেই মাঠে খেলাধূলা করত। পরবর্তীতে গ্রামবাসী সেই মাঠে হাট লাগান। এই সুযোগ নিয়ে তৎকালীন স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি এককালীন কিছু অর্থ স্কুলে জমা দিয়ে সেখানে দোকান ঘর করেছে। তাছাড়া অধিকাংশ দোকান মালিকরা ক্ষমতাবলে জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। আবার এদের কেউ কেউ একাধিক দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ দোকান মালিকের কাছ থেকে কোন ভাড়া পায় না।

সপ্তাহে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার ২দিন হাট বসে স্কুল মাঠে। স্থানীয়ভাবে হাট ডাক দেওয়া হয় চৈত্র মাসে। প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ডাক হয় এই হাট। অধিকাংশ বছর এই ডাকের টাকা স্কুলে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। যখন যিনি সভাপতি হন তিনি হাট কমিটির সঙ্গে যোগসাজস করে ডাকের টাকা আত্মসাত করেন। প্রধান শিক্ষক জানান, গত বছর ১০ হাজার টাকা ডাক হলেও স্কুলে জমা দেওয়া হয়েছে সাড়ে সাত হাজার টাকা। চলতি বছরের ডাকের ১০ হাজার টাকা এখনো জমা করা হয়নি। খাদাইল হাটের স্থানীয় দোকানদার আমিনুর রহমান জানান, তিনি খাদাইল গ্রামের জুয়েলের নিকট থেকে পজিশন কিনে নিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করেছে। তাকে মাসে ভাড়া দিতে হয় ৫০০ টাকা। চায়ের স্টলের মালিক আলেক জানায়, সামসুল সোনারের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়েছে। মাসে ভাড়া দিতে হয় ৭৫০ টাকা। সকল দোকানদার বললেন স্কুলের জায়গা হলেও ভাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষ পায় না। কেন পায় না জানতে চাইলে তারা কৌশলে এড়িয়ে যায়। এ বিষয়ে হাইস্কুলের সভাপতি মোস্তাকিম হোসেন বাবলুর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, হাট ডাকের টাকা প্রাথমিক বিদ্যালয় নেয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে যারা দোকান করেছে তারা দোকান ভাড়া স্কুলে দেয় না। হাটবারের দিন প্রতিটি দোকানদার ৫ টাকা করে টোল দেয়।

খাদাইল হাইস্কুলের সভাপতি রিয়াজুল করিম এসকেন জানান, হাটের মাঝে একটি পুরাতন পাইকর গাছ ছিল। বিপজ্জনক অবস্থায় গাছটি সরকারিভাবে নিলাম করা হয়। তারপর থেকে জায়গাটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সে জায়গাটি পজিশন বিক্রি করে হাইস্কুলের কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসিল্যা- বরাবর লিখিত অভিযোগ করার জন্যই সেই জায়গাতে আর যাইনি। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান বলেন, খাদাইল স্কুলের খেলার মাঠ বেদখল হয়ে আছে বিষয়টি জানি এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। গ্রামবাসীর ভুলে চিরদিনের জন্য খেলাধূলার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কচিকাচা শিশুরা।