বদরগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সালিস বৈঠকের পর স্বামীর আত্মহত্যা

বদরগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সালিস বৈঠকের পর স্বামীর আত্মহত্যা

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : বদরগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সালিশ বৈঠকের পর সাকিরুল ইসলাম (৩০) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা দেলোয়ার হোসেন সাতজনকে আসামি করে বদরগঞ্জ থানায় মামলা দিলেও বাদ পড়েছেন সালিশ বৈঠকের নেতৃত্বদানকারী গ্রাম্য মাতব্বররা। এরই     মধ্যে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মর্গে পাঠিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, ওই এলাকার সাকিরুল ইসলামের স্ত্রীর সাথে প্রতিবেশী ও দুই সন্তানের জনক খায়রুল ইসলামের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সাকিরুল ইসলামের বাড়িতে সালিশ বসে। সালিশের নেতৃত্ব দেন ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোকতারুল মন্ডল ও স্থানীয় মাতব্বর জাহাঙ্গীর আলম সোনার। অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ায় খায়রুলকে ওই সালিশে মারপিট করা হয়। পরে খায়রুলকে ওই নারী ও তার স্বামীর হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন। খায়রুল ক্ষমা চেয়ে সেখান থেকে রক্ষা পান। এরপর সালিশ শেষ বৈঠক শেষ হয়। কিন্তু এটা মানতে পারেননি খায়রুলের পরিবার।

 তারা একজোট হয়ে সাকিরুলের বাড়িতে হামলা চালান। এ কারণে লজ্জায় ও ক্ষোভে সাকিরুল ইসলাম নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পরপরই ওইদিন সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ থানায় খায়রুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নামে মামলা দায়ের করেন নিহতের চাচা দেলোয়ার হোসেন। তবে ওই মামলায় মাতব্বর জাহাঙ্গীরকে আসামি করা হলেও ইউপি সদস্য মোকতারুল মন্ডলকে আসামি করা হয়নি। মামলায় বলা হয়েছে, সাকিরুল লজ্জায় ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করেন। এদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে কথা হয় ওই নারীর সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে জোর করে খায়রুল বাড়িতে এসে আমাকে ধর্ষণ করে। এনিয়ে মঙ্গলবার ইউপি মেম্বার মোকতারুল মন্ডল ও মাতব্বর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসেছিল।

 তারা খায়রুলকে আমার ও আমার স্বামীর হাত-পা ধরিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করে দেন। এরপর বিকেলে খায়রুলের পরিবার আমাকে ও আমার স্বামীকে দায়ী করে মারধর করে। এতে আমার স্বামী লজ্জায় ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করেন।সালিশ করার কথা স্বীকার করে ইউপি সদস্য মোকতারুল মন্ডল বলেন, ‘বৈঠকে ওই নারী ধর্ষিত হওয়ার কথা জানাননি। তিনি শুধু বলেছিলেন খায়রুল তাকে উত্ত্যক্ত করেন। এ কারণে খায়রুলকে হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।’ অপরদিকে ঘটনার পর থেকেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন খায়রুল ইসলামের পরিবার। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  তবে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।