বদরগঞ্জে ড্রাগন ফলচাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন বেলাল

বদরগঞ্জে ড্রাগন ফলচাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন বেলাল

রুহুল আমিন সরকার, বদরগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের রোস্তমাবাদ এলাকার কলেজপাড়া। কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ওই পাড়া অবস্থিত। এ পাড়ারই স্বল্প শিক্ষিত যুবক বেলাল মোহাম্মদ। অনেক আশা নিয়ে কয়েক বছর আগে কয়েক এক একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ক’বছর ধরে আমের বাজার মূল্য তার আশানুরূপ না হওয়ায় তিনি সেই বাগানের আম গাছ কেটে ফেলেছেন। এসময় তিনি ড্রাগন ফল সম্পর্কে নানাজনের কাছ থেকে নানা ধরণের গল্প শুনে ড্রাগন ফলের বাগান গড়তে মন স্থির করেন।

যেমন সংকল্প তেমন কাজ। তিনি প্রথমে ৪০ শতাংশ জমি নির্বাচন করেন ড্রাগন ফল চাষের জন্য। এজন্য তিনি ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে নাটোর থেকে চারা সংগ্রহ করেন। অতপর জমি প্রস্তুত করে সেই চারা রোপণ করেন। আর চারা রক্ষায় তিনি জমির চারপাশে জিআই তার পেঁচিয়ে বেড়া দেন। এছাড়া চারা নির্বিঘেœ বেড়ে ওঠার জন্য প্রত্যেক একেকটি চারার সাথে একটি করে পিলার ছাড়াও প্লাস্টিক পাইপ স্থাপন করেন। ড্রাগন গাছের লতা যাতে নুইয়ে না পরে সেজন্য তিনি লোহার রড দিয়ে ছাউনি তৈরি করেন। এর পাশাপাশি ওই জমিতে তিনি সাথী ফসল হিসেবে নানা সবজির চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ওই চারার বয়স আট মাস হতে চলেছে। চারা গাছে ফুলও আসতে শুরু করেছে। বেলাল মোহাম্মদ এখন ড্রাগন ফল সংগ্রহ ও বিপনণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তিনি বলেন, ৪০ শতাংশ জমি দিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছি এবং আরো ১০ শতাংশ জমি প্রস্তুত রেখেছি। পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। এজন্য বেড়া তৈরির দু’টি মেশিন ক্রয় করেছি এবং জিআই তার মজুদ রেখেছি। বেলাল মোহাম্মদ বলেন, এ পর্যন্ত যতটুকু জেনেছি তাতে মনে হয়েছে ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক। প্রথমে সবকিছু নিজেই করেছি। তবে কৃষি অফিস বিষয়টি জানার পর কর্মকর্তারা এখন নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ ও তারিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাগন ফল চাষ পুরোপুরি লাভজনক হওয়ায় চাষি  
     
বেলাল মোহাম্মদ ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন।
এ কারণে ড্রাগন ফল ক্ষেতে তিনি বিরাট অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন। তিনি সফল হলে এলাকায় ড্রাগন ফল চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করছি। উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় উন্নত ফলের চাষে বেলালের আগ্রহ সত্যিই অবাক করেছে। তার আগ্রহে যাতে ভাটা না পরে সেজন্য সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে প্রতিনিয়ত তার বাগান পরিদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মো. জোবাইদুর রহমান বলেন, বেলাল  ড্রাগন ফল চাষে অবশ্যই সফল হবেন। কারণ তার পরিকল্পনা খুবই উন্নতমানের। এজন্য তাকে সকল ধরণের সহযোগিতার আশ^াস দেয়া হয়েছে।