বদরগঞ্জে এক বছর আগে খুঁটি স্থাপন হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি গ্রামবাসী

বদরগঞ্জে এক বছর আগে খুঁটি স্থাপন  হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি গ্রামবাসী

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ভাড়ারদহ গ্রামে বছরখানেক আগে বৈদ্যুৎতিক খুঁটি স্থাপন এখন পর্যন্ত ওইসব খুঁটিতে তার টানানো হয়নি। এলাকার লোকজনের অভিযোগ-ঠিকাদারের দালালদের দাবীকৃত দু’লাখ টাকা পাননি বলেই তার টানানো হয়নি। এলাকা ঘুরে এমন তথ্য দিয়েছেন গ্রামের ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ প্রত্যাশী জনগন। ওই এলাকার হরিদাস চন্দ্র রায়র জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঠিকাদারের দালাল বিধান চন্দ্র রায় দু’লাখ টাকা ঘুষ  দাবী করেছেন। এলাকার কিছু মানুষ দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে তাকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে ঘুষ প্রদাণ করেন। দাললরা সবার কাছ থেকে টাকা না পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। গ্রামে দুইশত পরিবারের বসবাস। অধিকাংশ মানষই দিন মজুর, খেটে খাওয়া দরিদ্র। খুঁটি স্থাপনের বছর পেড়িয়ে গেলেও তাতে তার টানানো হয়নি।
 
সুশান্ত রায় বলেন, এক বছর আগে বিদ্যুৎ অফিস থেকে মাইকিং করা হয়েছিল, বিদ্যুৎ নিতে কাউকে ঘুষ দেবেননা। এখন দেখছি ঘুষ দিয়েও বিদ্যুৎ মিলছেনা। পূর্ণ চন্দ্র রায় বলেন, একটু স্বস্তির আশায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ঘুষ দিলাম তবুও কাজ হলোনা। এমনই অভিযোগ এলাকার বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদেরও।এবিষয়ে জানতে বিধান চন্দ্র রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এদেশে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয়না। বিদ্যুৎ নিতে ঠিকাদার আশরাফ আলীর সঙ্গে দু’ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি হয়েছে। এলাকার লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে মাত্র ৬৫হাজার টাকা।  টাকা ঠিকাদারকে দেয়া হলেও বাকী এক লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা ছাড়া তিনি কাজ শুরু করবেননা জানিয়ে দিয়েছেন। দু’মাস আগে বৈদ্যুতিক তার মিললেও খুঁটিতে টানানো হচ্ছেনা।

ঠিকাদার আশরাফুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক তার পাওয়া যায়নি বলেই কাজ শেষ হচ্ছেনা।  এখন মিলেছে তাই অচিরেই কাজ শেষ করা হবে। তিনি বলেন, আমি কারো কাছ থেকে ঘুষ দাবি করিনি। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বদরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম হামিদুল হক বলেন, ঠিকাদারের কাজগুলো আমরা তদারকি করিনা। ওইসব কাজ দেখভাল করে রংপুর জোন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড রংপুরের সহকারী প্রকৌশলী তারিক সিদ্দিক বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যুতের জন্য আবেদন করলেই লোকজন বিদ্যুৎ পাবেন। এর জন্য কাউকে ঘুষ দিতে হবেনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা মিললে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।