বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ৯

বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ৯

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার, শেরপুর ও সুনামগ‌ঞ্জে বজ্রপাতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে; এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন ।

সোমবার ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সরকারি হিসেবে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসে বজ্রপাতে ৭০ জন নিহত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে প্রতিদিনই হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

সুনামগ‌ঞ্জ:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছ্নে।

নিহত নবকুমার দাস (৬৫) উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা।

শাল্লা থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে

নবকুমার আহত হন। পরে স্থানীয়রা তা‌কে উদ্ধার করে দিরাই উপ‌জেলা স্বাস্থ্যকে‌ন্দ্রে নি‌য়ে গেলে সেখানে কতর্ব্যরত চি‌কিৎসক মৃত ‌ঘোষণা ক‌রেন।

হবিগঞ্জ:

হবিগঞ্জের বানিয়াংয়ের দৌলতপুর ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুই ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও একজন।

নিহতরা হলেন উপজেলার কবিরপুর গ্রামের নাদু বৈষ্ণবের ছেলে ধানকাটা শ্রমিক অধীর বৈষ্ণব (২৭), তেলঘরি গ্রামের বীরেশ্বর বৈষ্ণবের ছেলে বসু বৈষ্ণব (৩২)।

আহত কৃষ্ণধন বৈষ্ণব (৩২) তেলঘরি গ্রামের হরিচরণ বৈষ্ণবের ছেলে। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় বৃন্দাচিত্তা হাওরে কয়েকজন শ্রমিক বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটতে যান।  

“এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই অধীরের মৃত্যু হয়।আর গুরুতর অবস্থায় বসুকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

পরে কৃষ্ণধনকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয় বলে লুৎফুর জানান।

নিহতদের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মামুন খন্দকার জানান।

মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুইজন।

সোমবার সদরের খলিলপুর ইউনিয়নের খলিলপুর গ্রামে ও শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের হাইল হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার খলিলপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু সামাদ (১৫) এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে মফিজ মিয়া (৩০)।

আহত রশীদ মিয়া (৩৬) ও মো. রফিক মিয়াকে (৬০) মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খলিলপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আবু বক্কর বলেন, সকালে ধান ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই আবু সামাদের মৃত্যু হয়।

কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রজমান মজুল বলেন, দুপুরে হাইল হাওরে বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে মফিজ মিয়ার মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন তার ভাই রশীদ মিয়া (৩৬) ও মো. রফিক মিয়া (৬০) নামে এক কৃষক।

শেরপুর:

শেরপুর সদর উপজেলা, নকলা, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবর্দীতে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এরা হলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার পাঘারিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে ও নালিতাবাড়ী এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন (১৫), সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামের আব্দুর রহিম (৪০), নকলা উপজেলার মোজারচর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও শ্রীবরদী উপজেলার বকচর গ্রামের কুব্বাছ আলী (৬০)।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে আহত হয় শারমিন। স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর মাঠে ধান কাটার সময় আব্দুর রহিম, ধান কেটে নিয়ে ফেরার পথে শহিদুল এবং মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় বজ্রপাতে কুব্বাছ আলীর মৃত্যু হয়।