বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন সত্ত্বায় পরিণত হওয়া সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজ ৯৯তম জন্মদিন। বাঙালি সত্ত্বার অধিকারী প্রত্যেকের জন্য দিনটি আনন্দের ও উৎসবের। প্রতি বছর মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম বার্ষিকী নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ¦ল আলোকবার্তা বয়ে আনে। দেশ গড়ার অনুপ্রেরণা তারা এই অকুতোভয় নেতার কাছ হতেই লাভ করে। জীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি বাঙালির সার্বিক মুক্তির জয়গান গেয়েছেন।  লক্ষ্যণীয় যে, বায়ান্নো হতে একাত্তর পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন সংগ্রামী জনতার পুরোভাগে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকলেও তার নামেই পরিচালিত হয়েছে সবকিছু। তিনিই হয়ে উঠেছিলেন জাতির শক্তি, সাহস, আশা ও সংগ্রামের অপরাজেয় এক প্রতীক।

সকল বিচারেই তিনি ছিলেন অনন্য এক বাঙালি। সহজ-সরল, সাদামাটা এক মানুষ। চলনে-বলনে আপাদমস্তক নিখাদ বাঙালি। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ প্রথমবারের ন্যায় এই দিনটি শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয় সরকারিভাবে। বঙ্গবন্ধু শিশুদের অত্যন্ত আদর করতেন। ভালোবাসতেন মনে-প্রাণে। তিনি বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আগামীতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব তাদের দিতে হবে। এ জন্য তিনি চাইতেন শিশুরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, মর্যাদা ও মহিমায় সমৃদ্ধ হোক। সৃজনশীল ও মুক্তমনের মানুষ হিসাবে গড়ে উঠুক। তিনি ধাপে ধাপে জনগণকে তৈরি করেছেন, উজ্জীবিত করে তুলেছেন স্বাধীনতার মন্ত্রে এবং তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ নামের আমাদের প্রিয় স্বদেশ ভূমি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। মাত্র ৫৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনকালে বাংলাদেশ নামের যে অনন্য উপহারটি তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন, সেই ঋণ কখনোই শোধ হবার নয়। এই মহান নেতার জন্ম দিনে জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে তাকে স্মরণ করবে- এটাই স্বাভাবিক।