বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা : ড. কামাল

বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা : ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারাটা আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে মনে করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, দুঃখ লাগে- অন্যান্য দেশের জাতির জনক ২০-৩০ বছর সরকারপ্রধান হিসেবে থাকেন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে উনাকে খুব কম সময়ের মধ্যে হারিয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে হারানো দেশের অপূরণীয় ক্ষতি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের উদ্যোগে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ড. কামাল। একাত্তরে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথে লন্ডন বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাতে এক ব্রিটিশ পুলিশের প্রথাভেঙে স্যালুট জানানোর স্মৃতি রোমন্থন করেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফিরছিলেন, লন্ডন বিমানবন্দরে তাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছিল। ব্রিটেনের পুলিশ বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট দিয়ে বলেছিল, ‘আপনার জন্য আমরা প্রার্থনা করেছিলাম।’ তখন বিশ্বব্যাপী বাঙালি শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জন করেছিল।

পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু করাচি থেকে লন্ডন ও দিল্লী হয়ে দেশে ফেরেন। সে সময় তার সঙ্গী ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী কামাল হোসেন। সেদিনের কথা মনে করে তিনি বলেন, এটা বিশেষ দিন। একসঙ্গে আমরা ফিরে এসেছি। আমার জন্য দিনটা আনন্দের। ড. কামাল স্মৃতিচারণা করে বলেন, আমরা অসাধারণ এক নেতৃত্ব পেয়েছিলাম। সেই নেতৃত্বের কারণেই আমাদের স্বাধীনতা সম্ভব হয়েছিল। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, উনাকে (বঙ্গবন্ধু) সবাই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বঙ্গবন্ধু অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অন্যায় দেখলে তার বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। স্বাধীনতা মানে সব জনগণের, কোনো ব্যক্তির না।

 এখানে স্বৈরতন্ত্র থাকার কোনো অবকাশ নেই। নির্ভেজাল গণতন্ত্র থাকবে। কামাল হোসেন বলেন, জনগণের অধিকারে কোনো ঘাটতি থাকলে বোঝা যাবে বঙ্গবন্ধুর কথাকে অমান্য করা হচ্ছে। সংসদ সার্বভৌম হিসেবে কাজ করতে পারছে কিনা, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে কিনা- এসবে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে বুঝতে হবে বঙ্গবন্ধুর কথাকে অমান্য করা হচ্ছে। আজকের দিনে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এত সভা, অনুষ্ঠান হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানোর উপায় হলো উনার কথাগুলোকে ষোলো আনা পালন করা। ড. কামালের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন- গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, মোকাব্বির খান, মহসিন রশীদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ।