‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে অনেক আগেই ফণীর পূর্বাভাস মিলেছে’

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে অনেক আগেই ফণীর পূর্বাভাস মিলেছে’

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের পর দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও দাবি করেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অনেক আগেই ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর দাবি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন হয়েছে বলেই দ্রুত সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তুতিটা সম্পূর্ণভাবে নেওয়া গেছে এবং এতে ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়েছে।

রোববার (৫ মে) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ক্যাডেট আলী আজগরের পরিবারের কাছে ‘জীবনের ক্ষতিপূরণের’ ৮৩ লাখ টাকার চেক হস্তান্তরকালে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

আগের দিন হানিফ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎপেক্ষণ করা হয়। ‘ফণী’ ২০০০ কিলোমিটার দূরে থাকতেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আগাম তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

একদিন পর ফণী’র পূর্বাভাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরে খালিদ মাহমুদ বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যে পদক্ষেপটা নিয়েছিলেন যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, যেটা উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কিন্তু আমরা অনেক দিন আগেই এই ফণী’র পূর্বাভাসটা পেয়েছিলাম। যেটা প্রায় সপ্তাহখানেক বেশি আগে আমরা পূর্বাভাস পেয়েছিলাম যে এই ধরনের একটি ঘূর্ণিঝড় আমাদের ওপর আঘাত হানতে পারে। আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন হয়েছে বলেই কিন্তু আমরা এতো দ্রুত, এতো আগাম একটা সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তুতিটা সম্পূর্ণভাবে নিতে পেরেছিলাম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন ১৯৯১ সালে আমাদের কী ভয়াবহ একটা বিপর্যয় হয়েছিল। সেখানে দেড় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, পশু-প্রাণী সবাই তখন অসহায় হয়ে গিয়েছিল। আমরা দেখেছি চিটাগং এয়ারপোর্টের মধ্যে শিপগুলো উঠে এসেছে। বিমানবাহিনীর অসংখ্য যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে গেছে, নষ্ট হয়েছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শুধু পূর্বাভাস না পাওয়ার কারণে।

‘আজকে আমরা সত্যিই প্রধানমন্ত্রীর যে দূরদর্শী নেতৃত্ব আমরা তাকে বলি, এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই তিনি বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশের অর্থনীতি নিয়ে যে সাহস দেখিয়েছেন, যে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকা দরকার। যেগুলো আমাদের এসব বিষয়ে অত্যন্ত কাজে লাগবে। আমরা সেজন্য প্রধানমন্ত্রীক ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই তিনি দেশবাসীর কল্যাণের জন্য এরকম একটা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে। ভবিষতে হয়তো এই স্যাটেলাইটের আরও বেশি উপকারিতা পাবো এবং আমাদের এসব ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।’

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দু’দিন আগে উপমহাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়, যেটা সুপার সাইক্লোন বলা হচ্ছে, ‘ফণী’ আমাদের ওপরে আঘাত হেনেছে উড়িষ্যা থেকে। পরে গতকালকে (শনিবার) অতিক্রম করেছে। ভারত সরকারকেও এখানে আমাদেরকে ধন্যবাদ দিতে হয়, তারা এতোটা সুন্দর ব্যবস্থা করেছিল যেখানে প্রাণহানি যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল সেই তুলনায় বড় কিছু হয়নি।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেই প্রথম তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দুই দিন রাতেও অফিস করেছেন। বন্দরগুলোর চেয়ারম্যানসহ সবাই এবং বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশবাসীকে এ ব্যাপারে সতর্কতা এবং তথ্য সরবরাহের চেষ্টা করেছি। জনগণ সেখানে উপকৃত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতো বড় একটা ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপর দিয়ে গেছে সেখানে আমাদের মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি। আমরা সেটা মোকাবেলা করতে পেরেছি। সেজন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গতকাল থেকে আমাদের ফেরি চলাচল শুরু হয়ে গেছে। নদীপথে আজ থেকে পরিবহন চলাচল করবে।

বিদেশ যাওয়ার আগে ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উৎকণ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, তিনি যখন ১ তারিখে চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে যান তখন তার সঙ্গে আমার গণভবনে কথা হয়েছে। সেই সময় তিনি একটি কথাই বলেছিলেন যে এরকম অবস্থায় আমাকে যেতে হচ্ছে।

‘আমি (খালিদ মাহমুদ) সেই সময় বললাম, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আপনি জাতীয় দুর্যোগের যে ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে সেটার একটা মিটিং করেছেন এবং আপনার মন্ত্রণালয়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি মিটিং করা হয়েছে। আমাদের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ১৯টি জেলার ডিসি, এসপি, বিভাগীয় কমিশনার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটা মতবিনিময় সভা করেছে, যেটা আমাদের ঈদ সব কিছু মিলিয়ে কিভাবে এটা মোকাবেলা করা যায়, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব উৎকণ্ঠা নিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গেছেন, চোখের চিকিৎসার মধ্যে তিনি বারবার দেশবাসীর খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপারে কী করণীয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিযেছেন। তার প্রতি আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞ।