বগুড়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শিল্প-কারখানা

বগুড়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শিল্প-কারখানা

ড. মোঃ সাজ্জাদুর রহমান (সাজু) :বগুড়া শহরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এখানকার শিল্প-কলকারখানার ভূমিকা বেশ অগ্রগণ্য। ব্রিটিশ আমলে (১৭৫৭-১৯৪৭) বগুড়া শহরে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে (১৯৪৭-১৯৭১) এখানে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠার ফলে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে বগুড়া শহর ‘শিল্প শহর’ নামে খ্যাত ছিল। কিন্তুু স্বাধীনতার পর বগুড়া কটন স্পিনিং মিলসহ অনেক কল-কারখানা নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। শিল্পের শহর নামে খ্যাত বগুড়া শহর নাম সর্বস্ব হয়ে যায়। বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং কালের আবর্তে একবিংশ শতকের প্রথম দশকে বগুড়ায় গড়ে উঠে নানা ধরনের শিল্প কলকারখানা, যা বগুড়া শহরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বগুড়া শহরের শিল্প-কারখানার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঃ
ব্রিটিশ আমল
ব্রিটিশ আমল হতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার নামে পরিচিত বগুড়া শহরের ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্প বিকাশের জন্য অনুকুল ছিল। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর, নগর-বন্দরের সাথে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। এক সময়ের নৌপথের ব্যবসা-বাণিজ্যের বেশ সুনাম ছিল। শিল্পের জন্য যে সমস্ত কৃষিজাত পণ্য প্রয়োজন তা এখানে সুলভ। বগুড়া শহরের সন্নিকটে সুলতানগঞ্জ ও নওদাপাড়ায় ইংরেজরা ১৮০৮ সালে নীল ও রেশম কুঠি স্থাপন করেন।১ ড. বুকানন হ্যামিলটনের বর্ণনায় ১৮১০ সালে চিনি শিল্প প্রতিষ্ঠার উল্লেখ পাওয়া যায়। শহরতলীর সাজাপুর এবং গন্ডগ্রামে ১৮৬৮ রেশম বস্ত্র তৈরীর তাঁত ছিল।২ উনবিংশ শতকের শেষ দশকে বগুড়ার কাগজ শিল্পের কথা জানা যায়।৩ এ সময়ের বয়ন শিল্পেরও বেশ সুনাম ছিল। এ সময় উৎপাদিত বগুড়ার উন্নতমানের সুস্বাদু গুড় ও মিছরির উল্লেখ পাওয়া যায়।৪
বগুড়া শহরের শিল্প-কলকারখানাঃ পাকিস্তান আমল
১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পাকিস্তান স্বাধীন হবার পর শিল্প ক্ষেত্রে বগুড়া সমগ্র দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করে।৫ বগুড়ার  শিল্পোয়নের জন্য ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ছিল অনুকূলে। রেশম ও চিনির কাঁচামাল, পশম (হস্তচালিত), কাগজ তৈরি, কাঁসার কাঁচামাল, প্রভৃতি শিল্পের চালিকা শক্তি ছিল। বগুড়ার শিল্পগুলো ১৯৭০ সালের পূর্ব পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে একক ভূমিকা পালন করত।
শহরের ভান্ডারী পরিবার এক্ষেত্রে বেশ সুনাম অর্জন করেছিল। ভান্ডারীগ্রুপ বগুড়া শহরে আটটি কারখানা প্রতিষ্ঠিত করেছিল। সেগুলো হলোঃ মেসার্স গোলাম কিবরিয় সোপ (১৯৪৭), গোলাম কিবরিয়া ওয়ার্কস (১৯৪৭), মুজিবুর রহমান ভান্ডারীর প্রচেষ্টায় ‘বগুড়া কটন স্পিনিং কোম্পানি লিমিটেড’(১৯৫৩), হাবিব
ম্যাচ ফ্যাক্টরী(১৯৪৯), ভান্ডারী গ্লাস ওয়ার্কস (১৯৫৮), নর্থ বেঙ্গল ট্যানারী (১৯৬২), লিথোগ্রাফিক প্রিন্টিং প্রেস (১৯৬৪) এবং ভান্ডারী ওয়েল মিল (১৯৬৮)। ট্যানারী কারখানাটি উত্তরাঞ্চলের একমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।৬ জামিল গ্রুপ সর্ব প্রথমে বগুড়া শহরে বিড়ি ফ্যাক্টরী ছাড়াও গড়ে তুলেছিল জামিল সোপ ওয়ার্কস(১৯৪৯), ১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশকে জানে সাবা টয়লেট ও ওয়াশিং সোপ উৎপাদন হতো। যা পাকিস্তান ছাড়া ও বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়াও সে সময়ের রিচলি পারফিউমড, সুগন্ধি জর্দা, ম্যানুফ্যাকচারিং, ভার্জিনিয়া টোবাকো কোম্পানি লিমিটেড (১৯৫৮) প্রভৃতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ছাপা ও প্যাকেট তৈরীর কাজে প্যাকেজিং এর সাথে অফসেট প্রিন্টিং প্রেস উত্তরাঞ্চলের একমাত্র বগুড়ায় প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রাজধানী ঢাকা ছাড়া দেশের মধ্যে এত প্রেস আর কোন জেলায় নেই। সমগ্র উত্তরবঙ্গের ছাপাখানার কাজে আজও বগুড়ার সুনাম রয়েছে। পুরাতন শিল্প-কলকারখানা ও প্রিন্টিং প্রেসের অধিকাংশই বিংশ শতকের শেষ দশকে এবং পরবর্তীতে বিলুপ্তপ্রায়।৭
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কলকারখানার মধ্যে জাহেদ মেটাল ইন্ডাস্ট্রি (১৯৫৫), রেডি লাইট ব্যাটারী কোম্পানি লিমিটেড (১৯৫৮), শাহজালাল সোপ ফ্যাক্টরী (১৯৬০), সান্তাহার রোডস্থ হাক্কানী সোপ ফ্যাক্টরী, নূরানী বিস্কুট এন্ড ব্রেড ফ্যাক্টরী লিমিটেড (১৯৬১), ডাঃ জাহেদুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়িতে ডক্টরস কেমিকেল ওয়ার্কস কোম্পানি লিমিটেড(১৯৫৭), আব্দুল জব্বার প্রতিষ্ঠিত কলোনীতে তাজমা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (১৯৬১) এবং এলুমিনিয়াম ফ্যাক্টরী প্রভৃতি। ব্যাটারী ও এলুমিনিয়াম কারখানাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। পাকিস্তান আমলে ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশনের দ্বারা ১৯৬০-৬১ সাল ক্ষুদ্র শিল্প সম্পদ উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়ায় প্রথম গড়ে উঠে। ৮
বগুড়া শহরের শিল্প-কলকারখানাঃ বাংলাদেশ আমল
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর সারা দেশের ন্যায় বগুড়ায়ও স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তরা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বগুড়া শহর ধ্বংসস্তুুপে পরিণত হয়েছিল। এ সময় ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল, কেমিকেল এবং প্রিন্টিং প্রেস গড়ে উঠে। এসময় মোঃ আমজাদ হোসেন এর প্রচেষ্টায় সিপলা লিমিটেড (১৯৭২), শাহসুলতান সোপ ফ্যাক্টরী (১৯৭২), আনোয়ার সোপ ফ্যাকরী, ভান্ডারী বিড়ি ফ্যাক্টরি, সরকারি উদ্যোগে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (১৯৮৫), ইঞ্জিনিয়ার মতিয়ার এর প্রচেষ্টায় পিসি এল প্লাস্টিকস(১৯৮৫), নর্দান বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি (১৯৮৭), জাহেদ ওয়্যার এন্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রি (১৯৮৭) প্রভৃতি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠে। পরবর্তীতে আয়রণ বাসনপত্র, চামড়াজাত দ্রব্য, দিয়াশলাই ইত্যাদি কারখানা গড়ে উঠে। বগুড়ার ঢালাই ও ফাউন্ড্রি কারখানা ঃ
বগুড়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে হালকা প্রকৌশল শিল্পে কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ তৈরীতে বিপ্লব ঘটেছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাইরে যাচ্ছে উন্নতমানের এসব লৌহজাত সামগ্রী। এসব কারখানায় প্রত্যক্ষ ও  পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বগুড়া শহরের গোহাইল রোড, সূত্রাপুর, রেলওয়ে মার্কেট, নামাজগড়, কলেজ রোড, বিসিক এলাকাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় হালকা প্রকৌশল শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে।৯  ঢালাই শিল্পের কাঁচামাল কাস্ট আয়রন, পিগ আয়রন, এলস, এম এস রড, সি এফ সীট, পিতল, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, বালু ইত্যাদি ব্যবহার করে লায়নার পিস্টন, হ্যান্ড টিউবওয়েল, প্লাজার, গজনপিন, পেনিয়াম ক্রাসার, বিয়ারিং, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ও অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুুত করা হচ্ছে। এসকল অসম্পন্ন পণ্য হালকা প্রকৌশল কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে। এখানে গ্রীল, সাটারগেট, স্টিল ফার্নিচার ফিকচার ইত্যাদি ছাড়াও কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরী হচ্ছে। কাটনারপাড়ায় মেসার্স রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড-এ জমি নিরানী যন্ত্র, শস্য কর্তন যন্ত্র, ভূট্টা মাড়াই যন্ত্র, বীজবপন যন্ত্র, শস্য ঝাড়াই যন্ত্র, শস্য মাড়াই যন্ত্র, পাথর ভাংগা মেশিন, ইট ভাংগা মেশিন, প্লাস্টিক পাইপ তৈরী মেশিন, ক্রাসার মেশিন, জৈব ও মিশ্র সার তৈরী মেশিন, অটো গুটি ইউরিয়া সার তৈরী মেশিন, স্বয়ংক্রিয় অটো ফিস ফিড, পোলট্রি ফিস ফিড তৈরী মেশিন, সেমাই তৈরী মেশিন ইত্যাদির যন্ত্র ও আংশিক যন্ত্রাংশ তৈরী করা হয়।১০
বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু (১৯৯৮) চালু হবার পর ঢাকা চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সাথে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারিত হওয়ায় বগুড়া শিল্পক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসরের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বগুড়া শহরে অন্যান্য শিল্পের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় ৫০/৬০ টি ঢালাই কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর দ্বারা সারা জেলায় প্রায় এক হাজার টি হালকা প্রকৌশল শিল্প গড়ে উঠেছে। এসব ঢালাই কারখানাগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মেট্রিক টন কাস্টিং উৎপাদন হয়। যা সমগ্র দেশের ৮০ ভাগ বগুড়ায় উৎপাদন হয়। ১১
বগুড়া শহরের মাঝারী ও ক্ষুদ্র শিল্প
ব্রিটিশ আমলে বগুড়ায় তাঁত শিল্প ছাড়া মাঝারী ও ক্ষুদ্র শিল্পের তেমন উল্লেখ পাওয়া যায় না। ১৯৪৭ সালের পরে বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের মত বগুড়ায় ১৯৬০-১৯৬১ সালে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা এর কার্যক্রমের আওতায় বগুড়া শহরের ফুলবাড়িতে শিল্প এলাকা স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সাল উক্ত স্থানে ১৪.৫০ একর জমির উপরে বিসিক (ইংপরপ- ইধহমষধফবংয ঝসধষষ ধহফ ঈড়ঃঃধমব ওহংঃরঃঁঃরড়হ ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ) প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্বল্প আয়ের লোকদের মূলধন বিনিয়োগের সুযোগ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে শহরের অর্থনীতিকে মজবুত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। এর জন্য সুলভ মূল্যে উন্নত জমি ক্রয়সহ পানি,  বিদ্যুৎ, রাস্তা, নর্দমা ইত্যাদির সুবিধা প্রদান করা হয়। এই পরিকল্পনায় যে সকল বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা হয় সেগুলো হলো- (১) স্থানীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য সম্পদের সদ্ব্যবহার (২) জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান (৩) রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি করা (৪) অধিকতর লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং (৫) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির নিমিত্তে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সরঞ্জাম তৈরীর কাজে উৎসাহ প্রদান।১২
পরবর্তীতে শিল্প উদ্যেক্তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পর মোট ৮৩ টি শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হয়। এরমধ্যে ৭৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ২০১০ সাল পর্যন্ত চালু রয়েছে। চালু থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে খাদ্যজাত, পাটজাত, কেমিকেল, প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, গ্লাস ও সিরামিক, চামড়া জাত, বস্ত্র, বিস্কুট ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান। কুটির শিল্পেরও বগুড়ার সুনাম রয়েছে।১৩
পরিশেষে বলা যায় যে, বগুড়ায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমত পেলে এখানকার সব শিল্প প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতো। এখানে কৃষি ভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বগুড়ায় হালকা প্রকৌশল শিল্পে কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ তৈরীতে বিপ্লব ঘটেছে। এর ফলে শিল্পনগরী তার হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে। সারা দেশের প্রকৌশল শিল্পের ৭০ শতাংশ বগুড়ায় তৈরী হয়। এমনকি দেশের বাইরে যাচ্ছে উন্নতমানের ফাউন্ড্রি ও ঢালাই শিল্পসহ লৌহজাত সামগ্রী। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। তবে প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড প্রসেসিং জোন না থাকায় প্রচুর চাহিদা থাকা সত্বেও রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। এতে শুধু শিল্প মালিক নয় সরকার ও রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। বগুড়ায় এক সময়ের ভান্ডারী আয়রন ফ্যাক্টরী, হিসাব গ্লাস ফ্যাক্টরী, জাহেদ ওয়্যার এন্ড মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, বগুড়া কটন স্পিনিং মিল, তাজমা সিরামিকসহ বড় বড় শিল্প কারখানা ছিল। স্বাধীনতার পর জাতীয়করণসহ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল দশা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বগুড়া কটন স্পিনিং মিলসহ ভান্ডারী গ্রুপের সবগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং জামিল গ্রুপের জামিল জর্দা, জানেসাবা সহ সব কলকারখানা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরফলে শতশত অভিজ্ঞ শ্রমিক কর্মচারি বেকার হয়ে যায়। ফলে বগুড়া মৃত শিল্প শহরে পরিণত হয়।  
অন্যদিকে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের সকল কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হতো। বিংশ শতকের শেষ দশক হতে বগুড়ায় এসকল যন্ত্রাংশের ৮০ শতাংশই উৎপাদন হয়। যার ফলে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। বগুড়ার ক্ষুদ্র মাঝারী ও কুটির শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিসিকে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বগুড়া শহরের সূত্রাপুর, গোহাইল রোড, নামাজগড়, কলেজ রোড সহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় হালকা প্রকৌশল শিল্প গড়ে উঠেছে। শহরের গোদারপাড়ায় ভারী শিল্প ‘বিটাক’ (ইওঞঅঈ-) গঠনের উদ্দেশ্যে জমি হুকুম দখল করলেও আজ পর্যন্ত সেখানে ভারী শিল্প গড়ে উঠেনি। (ইওঞঅঈ- ইধহমষধফবংয ওহফঁংঃৎরধষ ঞবপযহরপধষ অংংরংঃধহঃ ঈবহঃবৎ).
লেখক ঃ প্রভাষক, ইতিহাস বিভাগ,
 নিমাইদিঘী আদর্শ কলেজ,
নন্দীগ্রাম, বগুড়া।
০১৭১৩-৯৩৯৪০৭