ফোরজি সেবার মানে অসঙ্গতি

ফোরজি সেবার মানে অসঙ্গতি

দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর ফোরজি সেবায় অসঙ্গতি পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে কোয়ালিটি অব সার্ভিসের ড্রাইভ টেস্ট পরিচালনা করে বিটিআরসি। বুধবার (৩ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
 
ফোরজি সেবার নিম্নমান নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার  বলেন, অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে বিটিআরসির নির্ধারিত গাইডলাইন রয়েছে। বিটিআরসি নিশ্চয়ই গাইডলাইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আর বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলছেন, বিষয়টি বিবেচনা করে পরবর্তীতে জানানো হবে।
 
ড্রাইভ টেস্টের প্রতিবেদনে দেখা যায়, থ্রিজির ক্ষেত্রে খুলনা বিভাগে রবি ও টেলিটকের ডাউনলোড গতি বিটিআরসি নিরর্ধারিত ২ এমবিপিএসের চেয়ে কম ছিল। এছাড়াও টেলিটকের মান কম ছিল বরিশালে।
 
বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোপুরে টেলিটকের থ্রিজির মান নির্ধারিত ডাউনলোড গতি ২ এমবিপিএসের ক্ষেত্রে ১.৫ পাওয়া যায়। এ এলাকায় অন্যান্য অপারেটরদের থ্রিজি গতি নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি ছিল। আর ফোরজি নির্ধারিত ডাউনলোড গতি ৭ এমবিপিএসের চেয়ে প্রতি অপারেটরের কম পাওয়া যায়। গ্রামীণফোনের ডাউনলোড গতি ৫.১ এমবিপিএস, রবির ৪.৮৯ এমবিপিএস, বাংলালিংকের ৩.৫৬ এমবিপিএস। তবে আপলোড গতি তিন অপারেটরের ঠিক ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিকম অপারেটর টেলিটকের ফোরজি সেবা না থাকায় তথ্য আসেনি।
 
রংপুর বিভাগের রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা জেলায় ড্রাইভ টেস্টে থ্রিজিতে টেলিটকের ১.৯৯ এমবিপিএস ডাউনলোড গতি পাওয়া যায়। তবে অন্য অপারেটরগুলোর আপলোড ও ডাউনলোড নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি ছিল। এ এলাকাতেও ফোরজি ডাউনলোড গতি তিন অপারেটরেরই ৭ এমবিপিএস দিতে পারেনি।
 
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জে টেলিটকের থ্রিজিতে ডাউনলোড গতি নিম্ন ছিল। ফোরজি গতিতে এ এলাকাতেও কোনো অপারেটর নির্ধারিত মান ৭ এমবিপিএস দিতে পারেনি।
 
খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় রবি এবং টেলিটক থ্রিজির নির্ধারিত গতি দিতে পারেনি। এ এলাকায় গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংকের ফোরজি নির্ধারিত মানের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
 
কলড্রপের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চারটি বিভাগের মধ্যে রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনায় টেলিটকের নির্ধারিত মান ২ শতাংশের বেশি ছিল। তবে অন্য অপারেটরের কলড্রপ নির্ধারিত মানের কম পাওয়া গেছে।