ফের অবৈধ সোনার চালান

ফের অবৈধ সোনার চালান

বাংলাদেশে কোনো সোনার খনি নেই। হযরত  শাহজালাল (রহ) বিমান বন্দর সোনার খনির বিকল্প হয়ে উঠেছে। প্রায়ই অবৈধ সোনার চালান দেশে আসার সংবাদ উদ্বেগজনক। হযরত শাহ জালাল (রহ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের টয়লেট থেকে ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সোনা জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের এয়ার ক্রাফট মেকানিক মোহাম্মদ আফজাল হোসেন হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বাংলাদেশ বিমানের ‘অরুণ আলো’ এয়ার ক্রাফটটি। বিমানের ওই ফ্লাইটটি মাসকট থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসে। দেশে সোনা চোরাচালান ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত সোনা চোরাচালানের খবর আসছে গণমাধ্যমে। তারপরও কোনোভাবেই সোনা চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সোনা চোরাচালানে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কতিপয় সুবিধাভোগী এজেন্ট।

এই সিন্ডিকেট সদস্যরা দেশের বিমান বন্দরগুলোকে সোনা চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। বিমান বন্দরে পাচার সহ অন্যান্য অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নিয়ে এগিয়ে আসার কথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাঝে মধ্যেই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না। শুধু সোনা চোরাচালান বন্ধই নয়, মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালান বন্ধেও সর্বাধুনিক তল্লাশির বিকল্প নেই। দেশের বিমান বন্দরগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি সোনা চোরাচালান বন্ধে দেশের জুয়েলারির দোকানগুলোর দিকে তীক্ষ্ম নজর রাখা দরকার। আপন জুয়েলার্স থেকে ১৫ মণ সোনা উদ্ধারের ঘটনা জুয়েলারি ব্যবসার ওপর তীক্ষ্ম নজর রাখার তাগিদ সৃষ্টি করেছে। চোরাকারবারিদের প্রতি কঠোর হওয়ার বিষয়টিও প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার। সরকার চোরাচালান সহ সব ধরনের অপরাধ দমনে শতভাগ আন্তরিক এটা প্রমাণ করতে হবে। সোনা চোরাচালান চক্রের গডফাদারদের গ্রেফতার করতে হবে।