ফেইসবুক আনছে ডেটিং সার্ভিস

ফেইসবুক আনছে ডেটিং সার্ভিস

গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে থাকা ফেইসবুক এবার ডেটিং সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত এই সোশাল নেটওয়ার্কে আরও বেশি সময় মানুষকে আটকে রাখা।

বিবিসির এক  প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসের ম্যাকইনারি কনভেনশন সেন্টারে মঙ্গলবার শুরু হওয়া বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে ফেইসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ নতুন এই ফিচার চালুর পরিকল্পনার কথা জানান।

জাকারবার্গ বলেন, তাদের এই ‘ম্যাচ মেকিং ফিচার’ শিগগিরই আসছে এবং গ্রাহকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি তাদের মাথায় আছে।  

“ফেইসবুকে ২০ কোটি মানুষ আছে, যারা নিজিদের বর্ণনা করেছে ‘সিঙ্গেল’ হিসেবে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে এখানে আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে।”   

তিনি জানান,  ফেইসবুকের এই ফিচার নিছক ডেটিং অ্যাপ হবে না। মনোযোগ থাকবে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের দিকে, অর্থাৎ ঘটকালিতে।

 

জাকারবার্গের এই ঘোষণার পর মঙ্গলবারই ফেইসবুকের শেয়ারের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে ১৭৩.৮৬ ডলারে উঠেছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত কিছু অনলাইন ডেটিং সার্ভিস কোম্পানির শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।  

জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারের মালিক ম্যাচ গ্রুপের শেয়ারের দাম পড়ে গেছে এক ধাক্কায় ২২ শতাংশ। টিন্ডার তাদের ব্যবহারকারীর তথ্যের জন্য তাদের ফেইসবুক প্রোফাইলের ওপরই নির্ভর করে।

রয়টার্স লিখেছে, ফেইসবুকের ডেটিং সার্ভিস চালুর বিষয়টি গত এক দশক ধরেই আলোচনায় ছিল। এখন ওই ফিচার চালু হলে তা তরুণদের মধ্যে ফেইসবুকের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহককে আরও বেশি সময় ফেইসবুকে রাখতে সাহায্য করতে পারে, যা এই সোশাল নেটওয়ার্কের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য দুটি বড় চ্যালেঞ্জ।

গত জানুয়ারিতে ফেইসবুক জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ডিজাইনে পরিবর্তন আনার পর গ্রাহকদের ফেইসবুকে থাকার সময় দিনে প্রায় পাঁচ কোটি ঘণ্টা কমে গেছে।

তাছাড়া ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মাধ্যমে বেহাত হওয়া কয়েক কোটি ফেইসবুক গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রচারের কাজে ব্যবহারের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর নানামুখী চাপের মধ্যে আছেন জাকারবার্গ।

আস্থা ফেরানোর চেষ্টায় ডেভেলপার সম্মেলনে জাকারবার্গ বলেন,  ফেইসবুক একটি  নতুন টুল নিয়ে কাজ করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পান।  কোনো কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ ফেইসবুক থেকে তাদের তথ্য সংগ্রহ করছে তা তারা জানতে পারবেন এবং প্রয়োজন মনে করলে সেই তথ্য তারা মুছে দিতে পারবেন।