ফুলবাড়ীতে কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে

ফুলবাড়ীতে কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃষকদের মাঝে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় মোট ২৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অধিদফতর কৃষকদের সার, বীজ ও কৃষি পুনর্বাসনসহ পরামর্শ সহায়তা দিয়ে আবাদ সম্প্রসারণ করছেন। মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগি ও গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে অনেক বেশি। ভুট্টা চাষ থেকে এর সবকিছুই কাজে লাগে। ভুট্টা গাছের পাতা সুষম গো-খাদ্য এবং কান্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কৃষি অধিদফতর দাবি করেছে, ভুট্টা চাষ লাভজনক এবং এর উৎপাদনশীলতাও বেশি।

ফুলবাড়ী উপজেলার ক্ষেতগুলোতে ব্যাপক ভুট্টার চাষ আবাদ হয়েছে। ভুট্টা চাষে এ এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার শিবনগর, খয়েরবাড়ী, লালপুর, দৌলতপুর, মাদিলা, আমডুঙ্গীহাট, কাজিহাল, আলাদীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল এনকে (৪০), পালওয়ান, টাইটান ৯৮১সহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ভুট্টা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন। এ বছর ২৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ২২ হাজার ৭৩৮ মে. টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ধান ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় কম খরচে বেশি লাভের আশায় বিকল্প ফসল হিসেবে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে এ উপজেলার কৃষক।

আলাদীপুর ইউনিয়নের ভিমলপুর ইউপির কৃষক মোরশেদ জানান, ভুট্টা চাষে জমিতে পানি সেচ কম দিতে হয়। সেচ সুবিধার কারণে তিনি ধান আবাদের চেয়ে ভুট্টার আবাদে অধিক আগ্রহী। বেতদিঘি ইউপির মাদিলা হাটের কৃষক সুলতান বলেন, মাছ ও মুরগির খাবার হিসেবে ভুট্টার ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। তাছাড়া ভুট্টা বাজারে বিক্রি করার পরও এর শুকনো গাছ ও মোচা বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভুট্টা ব্যবহার করে বিভিন্ন খাবার উপযোগী জিনিস, যেমন- খই, রুটি, গো-খাদ্য ইত্যাদি খাবারে ভুট্টার গুরুত্ব অনেক। এ কারণে ভুট্টা চাষের চাহিদা সকল কৃষকের কাছে বেশি।

খয়েরবাড়ী ইউপির মুক্তারপুরের মকবুল হোসেন বলেন, আগে ভুট্টা চাষের প্রতি তার তেমন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু অন্য কৃষকদের ভুট্টা আবাদ করে মুনাফা অর্জন করতে দেখে উৎসাহী হয়ে প্রথম বছরেই খরচ বাদে বিঘা প্রতি পঁচিশ হাজার টাকা লাভ করেন। প্রতি একরে ভুট্টার ফলন হয় ১২৫ মণ বা ৫ দশমিক ৫ টন। যা অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি। তারপর থেকেই তিনি প্রতি বছর ভুট্টার চাষ আবাদ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এটিএম হামীম আশরাফ জানান, চলতি বছরে উপজেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি এলাকায় মাঠ পর্যায়ে ঘুরে কৃষকদের ভুুট্টা চাষে তিনি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মাঠ জরিপ অনুযায়ী এ বছর উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকায় ব্যাপক হারে ভুট্টার চাষ আবাদ হয়েছে। এ বছর ২৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ২২ হাজার ৭৩৮ মে. টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ আবাদ সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি জমিগুলো সময়মতো চাষাবাদ সম্পন্ন হলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং ইঁদুর ক্ষেত নষ্ট না করলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা রাখেন। কৃষকরাও এ বছর ভুট্টা আবাদে অধিক লাভবান হবেন বলেও তিনি আশাবাদী।