ফুলবাড়ীতে অবৈধ ইটভাটা হুমকির মুখে বোরোক্ষেত

ফুলবাড়ীতে অবৈধ ইটভাটা হুমকির মুখে বোরোক্ষেত

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : নীতি মালা তোয়াক্কা না করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটার মালিকরা আবাদী জমি ও জনবসতী এলাকা জুড়ে রাত-দিন ইট পোড়ানো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেদাচ্ছে। মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি ইটভাটা গড়ে উঠায় ইটভাটার বিষাক্ত ছাঁই ও কালো ধোঁয়ায় হুমকির মূখে পড়েছে কৃষকের বোরো ক্ষেত। নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে দাড়িযেছে রবিশস্য, সুপারি,আম-জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোরক। সেই সাথে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ইটভাটার পার্শ্ববর্তী এলাকার কোমলমতি শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষ।  
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্ত ঘেষা কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারী গ্রামের বিস্তৃর্ন কৃষি জমিতে মেসার্স ডব্ল্উি এ এইস ব্রিকস্ ফিল্ড, এ বি ব্রিকস্ ও মেসার্স এম এস এইচ ব্রিকস্ নামের তিনটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসকল ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই বৈধ ভাবে। দেখাতেও পারেনি তাদের কাগজপত্র। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোতি না নিয়ে  শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড  লাইসেন্স মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটার পোড়ানো কাজ। দাপটে এসব মালিকরা সরকারী নিময়নীতির তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে দৈন্দদিনের কাজ।
আজোয়াটারী গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৩৭) হজরত আলী (৬৫) মফিদুল (৪০) জানান, ভাটার মালিকরা জমি ভাড়া নিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করছে। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ক্ষেতের ফসল কমে যাচ্ছে। গত চার ধরে মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি ইটভাটা গড়ে উঠায় বিঘা প্রতি ৫/৬ মন কমে এসেছে। ক্ষতিও হচ্ছে আম, কাঁঠাল, নারিকেল সহ বিভিন্ন ফলের গাছের।মেসার্স ডব্লিউ এ এইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক মোশারফ হোসেন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পুরাতন সনদ আছে, নতুন সনদের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এ বি ব্রিকস্রে ম্যানেজার শাহিন ২০১৬ সালে মেয়াদ উর্ত্তীর্ন সনদ সাংবাদিকদের দেখিয়ে মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। মোবাইল ফোনে এ বি ব্রিকস্রে মালিক খায়রুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কাগজ দেখাতে বাধ্য নন বলে জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ জানান, শুনেছি বৈধ কাগজপত্র থাকার কথা কিন্তু আছে কি না জানা নেই। তবে জমির উপরিভাগের মাটি দিয়ে ইট তৈরী করার কারনে ওই এলাকার জমির উর্বরা শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এটা কৃষির জন্য মারাত্বক হুমকি। পরিবেশ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, নথিপত্র দেখে যাদের কাগজপত্র নাই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন জানান, যাদের কাগজপত্র নাই তারা অবৈধ, শিঘ্রই এ সকল অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।