ফিরবে দেশি মাছের রাজত্ব

ফিরবে দেশি মাছের রাজত্ব

চিকিৎসকরা শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষের পুষ্টির জন্য সাধারণত দেশি মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাজারে সরবরাহ না থাকায় মানুষ চাষের মাছের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। দেশে প্রাকৃতিক উৎস থেকে দিন দিন মাছ আহরণ কমছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক অবক্ষয়, মুক্ত জলাশয় থেকে নির্বিচারে মাছ আহরণ, প্রজননক্ষম মাছ মারা, প্রজননক্ষেত্র বিনষ্ট করার কারণে প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪-৮৫ সালের দিকেও প্রাকৃতিক উৎস থেকে ৮৪ ভাগ মাছ পাওয়া গেছে। বাকি ১৬ ভাগ মাছের চাহিদা চাষের থেকে নেওয়া হয়। এখন প্রাকৃতিক উৎস থেকে চাহিদা মাফিক মাছ আর পাওয়াই যাচ্ছে না। ভরসা করতে হচ্ছে চাষের মাছের ওপর। প্রাকৃতিক উৎস থেকে মৎস্য আহরণ কমার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তা থেকে উত্তরণে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে।

যা সরকারি মৎস্যজীবি উৎপাদন খামার ও বাওড়ে মৎস্যবীজ ও মাছ উৎপাদন, বিপণন এবং ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৯ নামে অভিহিত হবে। নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন, সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান সম্পন্ন রেণু, পোনা, চিংড়ি পিএল প্রজননক্ষম মাছ উৎপাদন, উৎপাদনের পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণ, সরকারি-বেসরকারি খামারে উৎপাদিত মাছের পোনা নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করা, দেশি প্রজাতিসহ অন্যান্য মাছ উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ করে মাছ চাষ সম্প্রসারণ, দেশি প্রজাতির ছোট মাছসহ বিদেশি কার্প জাতীয় ও অন্যান্য মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন করে মাছ চাষিদের মধ্যে সম্প্রসারণ এবং বাওড়ে সামাজভিত্তিক মৎস্যচাষের কৌশল ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা। তবে আমরা মনে করি পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। দেশের নদী, খাল-বিলের পানিকে দূষণমুক্ত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। জমিতে রাসায়নিক সারের বদলে অধিক পরিমাণে পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে মজা ডোবা, খাল বিল পুনর্খনন করে দেশি মাছের অবাধ বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।