ফিরবে দেশি মাছ

ফিরবে দেশি মাছ

মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, কৃষি জমিতে যথেচ্ছ সার, কীটনাশক ব্যবহার, শিল্পায়ন ও মানুষের অসচেতনতা এবং দায়িত্বহীনতার জন্য পানি দূষণ, জনসংখ্যার বাড়তি চাহিদার মুখে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা নানাবিধ কারণে দেশে মাছের উৎপাদনে নেমে এসেছে মহাবিপর্যয়। মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার যতœশীল হওয়া সত্ত্বেও দেশি মাছের আকাল স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। মৎস্য বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ প্রজাতির মাছ চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো বিলীন হয়ে গেছে বা হতে চলেছে। আধুনিক প্রজন্মের বেশির ভাগই হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রজাতির মাছের চেহারাই দেখেনি। কিন্তু প্রবীণ প্রৌঢ়রা সেসব মাছের স্বাদ লজ্জতের কথা এখনো ভুলতে পারেন না। তবে মৎস্য বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এসব দেশীয় মাছ ফিরিয়ে আনতে। সুখবরও আছে। তাদের মতে, রাজত্ব ফিরছে বিলুপ্তপ্রায় ১৯ প্রজাতির  দেশি মাছের।

এর মধ্যে রয়েছে বাটা, ভাঙনা, কালি বাউশ, গনিয়া, মহাশোল, মহিনীবাটা, ঘাওরা, তেলে গুলশা, পারসে, পোয়া, মাগুরা, সরপুটি, বাইন, টাকি, নোনা টেংরা ও বোয়াল। ইতিমধ্যে এসব মাছের প্রজনন ও  আধুনিক চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। তথ্য মতে, দেশে ২৭০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ পাওয়া যায়। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) হিসাবে, এর মধ্যে বিলুপ্তির পথে ৫৪ প্রজাতি। তবে এসব মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি রিহ্যাবি লিটেন্স (প্রকল্পের আওতায় ১৮টি জলাশয়ে ব্রুডমাছ ও পোনা অবমুক্ত করে সফলতা মিলেছে। এতে দেশি বিপন্ন প্রজাতির মাছের প্রাপ্যতা আরও বাড়বে, দামও হবে সহনশীল। আমরা আশা করি, সেই সঙ্গে মজা, ডোবা, খাল, বিল পুনর্খনন করে দেশি মাছের অবাধ বংশ বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।