ফারাক্কা বাঁধ মরণ ফাঁদ

ফারাক্কা বাঁধ মরণ ফাঁদ

ভারতের ফারাক্কা বাঁধ আমাদের জন্য মরণ ফাঁদ। সারা বছর এই বাঁধের মাধ্যমে ভারত উজানে পানি প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে গঙ্গার বাংলাদেশ অংশ মরুভূমিতে পরিণত হয়। এখন ভারতে বর্ষার পানি নদীর দু’কূল ছাপিয়ে বন্যা কবলিত হওয়ায় ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়ে বন্যার পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বর্ষা মৌসুমের শেষ সময় ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের সব ক’টি গেট খুলে দেওয়ায় গঙ্গা প্রবাহের পানি আঘাত হেনেছে বাংলাদেশের অংশ পদ্মায়। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপচে পড়ছে বাঁধের পানি। এ কারণে ফারাক্কা ব্যারেজের ১১৯টি গেট এক যোগে খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে পদ্মায় আকস্মিক পানি বেড়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। ঈশ্বরদী পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে গত মঙ্গলবার ১৬ বছর পর পদ্মার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি  বিপদ সীমার নিচে থাকলেও প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এ উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৮ গ্রামে ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি রয়েছেন। আগের দিন সোমবার বিকেলে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাড়িঘরে পানি ঢুকে যাওয়া মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। সরকারের এখন প্রধান কাজ বন্যা কবলিত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌছে দেওয়া। খাদ্য ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করাও জরুরি। এ ছাড়া বন্যার সঙ্গে সঙ্গে আসে পানিবাহিত রোগ বালাই। খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সরবরাহ করতে হবে। এই বন্যায় আমন ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন নিয়ে ভাবতে হবে এখন থেকেই। এ ছাড়া ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে  ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সঠিক নীতিমালা থাকা দরকার।