ফসলি জমিতে ইট ভাটা

ফসলি জমিতে ইট ভাটা

সভ্যতার বিবর্তনে ইট ও ভাটার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। আধুনিক জীবনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইমারত আর বিল্ডিং, সেই সঙ্গে বাড়ছে ইটের ব্যবহার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ নজরদারির অভাবে কোনো রকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠছে ইটভাটা। এর সিংহভাগই পরিবেশ সম্মত নয়। খবর এসেছে, পাবনার ঈশ্বরদীতে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে ৫৬টি ইটভাটা। এসব ইটভাটার দখল হয়েছে চরের অন্তত ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ও বাগানের জমি। প্রতিটি ভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। অথচ এর খবর জানেন না বনসংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা। এসব ইটভাটা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেননি মালিকরা। জাতীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই এমন ইটভাটার সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়। এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় জমির ফসল।

পরিবেশ দূষণ ও ফসলহানির ঘটনা প্রতিনিয়ত পাওয়া গেলেও অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমিতে ইটভাটা বন্ধ হচ্ছে না। ইটভাটার এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের উন্নয়ন হতে হবে প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, পরিবেশের মান অক্ষুন্ন রেখে। প্রচলিত ইটভাটাগুলোতে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ৭০-৮০%। আবার পরিবেশ বান্ধব অটোমেটিক ইটভাটাতে মাত্র ২৫%-৩০% কার্বন নিসরণ হয়। তাই এ ধরনের ইটভাটার ইট ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়াতে হবে। আইন ভঙ্গ করে যেন যে কেউ যত্রতত্র ইটভাটা নির্মাণ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কর্তৃপক্ষকে। তাই কৃষি, পরিবেশ ও বনজসম্পদ বাঁচাতে আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি থাকতে হবে।