ফণী পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা

ফণী পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা

ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের উড়িষ্যা উপকূল আঘাত হানার পর বাংলাদেশে আসতে পারে- এমনটা ধরে নিয়েই সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। চল্লিশ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণীতে’ ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় গোটা দেশ তটস্থ। ঘন্টায় ১৭০ কিলোমিটার বাতাসের শক্তি আর হাজার কিলোমিটার ব্যাসের বিস্তার নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছিল ফণী। ইতিমধ্যে ২০০ কিলোমিটার গতিতে ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত হেনে লন্ড ভন্ড করে দিয়েছে সেখানকার উপকূলীয় অঞ্চল। প্রাথমিকভাবে সেখানে ৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে আছড়ে পড়ার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা রাজ্যের উপকূলে আঘাত হানতে পারে- এমন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। তাই অনেক দুর্বল অবস্থায় শনিবার সকালে খুলনার উপকূল অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার থেকে সারা দেশেই হালকা-মাঝারি আকারে বিরতিহীন বৃষ্টিপাত চলে আসছে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে খুলনা ও সাতক্ষীরার উত্তর পাশ দিয়ে খুবই দুর্বল অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে ফণী। এটি শনিবারের মধ্যেই বাংলাদেশ অতিক্রম করে আবারও ভারতের আসামে প্রবেশ করবে। এটার ধ্বংসলীলা চালানোর মতো প্রলয়ংকরী শক্তি আর নেই। এটা সাধারণ মানের ঝড়ে পরিণত হয়ে আমাদের ভূ-খন্ড অতিক্রম করেছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় সার্বিকভাবে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাকে সন্তোষজনক বলা যেতে পারে। জনগণের সচেতনতাই পারে যে কোনো ধরনের দুর্যোগের ক্ষতি কমিয়ে আনতে। সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা। উপকূলীয় অঞ্চল থেকে জনগণকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ করেছে সরকার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ও জোয়ারে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর বেশকিছু পয়েন্টে বাঁধ ভেঙ্গে ও  পানি উপচে জনপদ প্লাবিত হয়েছে, তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, ফসলি জমি, বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দুর্যোগ পরবর্তি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।