প্রেমের কারণে মেয়েকে হত্যা করেন মা

প্রেমের কারণে মেয়েকে হত্যা করেন মা

প্রেমের কারণে মায়ের হাতে প্রাণ দিতে হলো নোয়াখালীর সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের অনার্স (সম্মান) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তাবাছসুম তানিয়া চমককে (২২)।

শনিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ।

গ্রেফতাররা হলেন- জেলা শহর মাইজদীর পৌর বাজার সংলগ্ন জয়কৃষ্ণপুর এলাকার এনামুল হক উকিল বাড়ির শাহাজাদা এনামুল হক হিমেলের মেয়ে তাসনিম তাহসিন চাঁদনী (১৯), তার স্ত্রী সাজেদা আক্তার নিপু (৪০), শ্যালক ও সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুল্যা মাস্টার বাড়ির আব্দুল্যা চৌধুরীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম সোহেল (৩০)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, অনার্সে পড়া অবস্থায় তানিয়া সহপাঠী তাপসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। ঘটনার ৫-৬ দিন আগে ডাক্তার দেখানোর জন্য তানিয়ার বাবা শাহজাদ এনামুল হক হিমেলের সঙ্গে সাজেদা আক্তার নিপু ঢাকায় যান। তখন মাইজদী পৌর বাজার সংলগ্ন জয়কৃষ্ণপুর বাসায় তানিয়া এবং তার ছোট বোন চাঁদনী ছিলেন।

গত ১১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে বাসায় ফেরেন তানিয়ার মা নিপু। মায়ের অনুপস্থিতিতে তানিয়া প্রেমিক তাপসের সঙ্গে সারাদিন মোবাইলে কথা বলায় ব্যস্ত থাকতো বলে মাকে জানায় চাঁদনী। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত তানিয়াকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে নির্যাতন করেন তার মা। একপর্যায়ে তানিয়া মেঝেতে পড়ে গেলে চাঁদনীর শরীর থেকে ওড়না নিয়ে তানিয়ার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তার মা। পরে মা নিপু তার ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম সোহেলের সহযোগিতায় ওড়না দিয়ে টেনে ঘরের পাশের একটি ডোবার মধ্যে তানিয়ার মরদেহ ফেলে দেয়।

পরের দিন ১২ নভেম্বর নিহতের মা সাজেদা আক্তার নিপু রেল স্টেশনে তানিয়াকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় এই মর্মে থানায় জিডি করেন। ঘটনার তিনদিন পর ১৫ নভেম্বর বিকেলে তাদের বাসার পাশের ডোবা থেকে তানিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতে তার প্রেমিক তাপসকেও আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে এ ঘটনায় নিহতের মা ও মামাকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ আরো জানান, শুক্রবার তাসনিম তাহসিন চাঁদনীকে নোয়াখালী বিচারিক আদালত-২ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেব উদ্দিন খাঁনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে ঘটনার বিবরণ দেয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাদা এনামুল হক হিমেল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে চাঁদনীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিপু ও সোহেলের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।