প্রিয়া সাহার রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা

প্রিয়া সাহার রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা

নাজমুল হোসেন: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার সংখ্যালঘুদের নিয়ে দায়েরকৃত দেশ ও সরকার বিরোধী অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট যা আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। গত বুধবার মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ ঘটনাটি প্রকাশ করে। তার পর থেকেই বিষয়টি এখন সরকার মহলে ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবচেয়ে সরব ভূমিকা পালন করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ১৬টি দেশের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন আর প্রিয়া সাহাও সেখানে প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলার সুযোগ পান। তাঁর অভিযোগ ছিল এমনটাই- আমি বাংলাদেশের নাগরিক। সেখানে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। আমরা আপনার সহায়তা চাই এবং আমরা সেখানে শান্তিতে থাকতে চাই। এখন বাংলাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়ানোর পাশাপাশি আমাদের জমিজমা দখল করে নিয়েছে। ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না জানালেও তাঁর মাথায় সহানুভূতির হাত ভুলিয়ে দেন।

 তিনি শুধু জানতে চেয়েছেন কারা এই সব অন্যায় কাজ করছে। উত্তরে প্রিয়া সাহা মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপের কথা বলেছেন যারা নাকি রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে থাকে। এতে আমাদের সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সাম্প্রদায়িক বিরোধিতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। যাতে করে বিশ্ব দরবারে আমাদের সরকারের ভাবমূর্তি আরও একবার ক্ষুন্ন হল। বিষয়টা এখন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ঐসব ধর্মাবলম্বীদের আমাদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হতে উসকে দেয়ার মত। সংখ্যালঘুদের নিয়ে এমন একটি সরকার ও দেশ বিরোধী, সাম্প্রদায়িক বিরোধী মিথ্যা অভিযোগ সত্যিই ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। এর আগেও তিনি বহু বিতর্কিত কা  ঘটিয়েছেন। গত বছর তাঁকে আরও এক বিতর্কিত কর্মকাে র জন্য মহিলা ঐক্য পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি একটি বেসরকারি সংস্থা ‘’শারি’’- এর নির্বাহী পরিচালক এবং মাসিক ‘’দলিত কণ্ঠ’’ নামে একটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। তিনি হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

কিভাবে বহির্বিশ্বে দেশের বিরুদ্ধে একটি বিকৃত মনের পরিচয় দিলেন তা আমরা কিছুতেই বুঝতে পারছি না। নিশ্চয়ই এর পিছনে কোন বড় দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাঁর কোন ব্যক্তিগত দুঃখ, কষ্ট বা অভিযোগ থাকতে পারে। তাই বলে তো তিনি দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনতে পারেন না। মিয়ানমার অসংখ্য রোহিঙ্গাদের হত্যা করলো, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিল, লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করলো এই বিষয়টা কি বিশ্ববাসীর আড়ালেই হয়েছিল? আমাদের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই লক্ষ লক্ষ মুসলিম রোহিঙ্গাদের জনবহুল এই বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার নজির রেখেছেন অথচ এই দেশ ও সরকারে বিরুদ্ধেই অনুরূপ বিষয়ে তিনি উল্টো অবস্থান নিলেন। প্রিয়া সাহার এত বড় ঘটনার অভিযোগটি বিশ্ববাসী বা এদেশের কেউ জানেই না। তিনি কি শুধু একাই এই ঘটনাটি দেখেছেন? তাহলে কেন এই ভিত্তিহীন অভিযোগ? আর যাই হোক ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য হুমকি হিসেবেই অনেক সচেতন মহল ভাবছেন।

 বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দেশে ফিরলে প্রমাণ দিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে লন্ডনে থেকে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। তার আগে যেন কোন লিগ্যাল ব্যবস্থা না নেয়া হয়। সরকারের উচিৎ হবে এমন ষড়যন্ত্রমূলক কাজের সাথে আর কারা জড়িত আছেন খুব গুরুত্বের সাথে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা। পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে এটা যে মিথ্যা-বানোয়াট, রাষ্ট্রদ্রোহী ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা সেটিও তুলে ধরতে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণ চায় প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই রাষ্ট্রদ্রোহীতার কারণে দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি দেয়া হোক এবং এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে দিকে জোর দেয়া।
লেখক ঃ প্রকৌশলী-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭৭২-৩৯১৪৯১