প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তার ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই ঘোষণা দেন তিনি।


ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘‌আজ আমি বাড়ি সিলেটে অবস্থান করছি। একটু আগে ফেসবুকে যে জিনিসটি ভাইরাল হয়েছে প্রিয়া সাহার। তিনি আমেরিকায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘুদের গুম করা হয়েছে। আরও অনেকে নাকি গুম হওয়ার পথে। এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদশে। সেখানে ওই নারী মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছেন। তাই আমি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করা কারো ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

ব্যারিস্টার সুমন জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করব, আপনারা আমার পাশে থাকবেন।’

প্রিয়া সাহার এই রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে নালিশের বিষয়টি চক্রান্তের অংশ ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‌নালিশ সংক্রান্ত ভিডিওটি দেখলাম। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। আমাদের বাংলাদেশটা প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি, যেটা কিনা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই মহিলাটি আমাদের কাছেও কখনো এ ব্যাপারে আসেননি কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কাছেও যাননি। আমাদের পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ থাকেন যাতে কোথাও কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার না হন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই মহিলা যা বলেছেন তা চক্রান্তের অংশ বলে মনে করছি। আমি এখনো বলব, কোথাও এ ধরনের ঘটনা থাকলে আমাদের বলুক বা পুলিশকে বলুক।’

গত মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

এরপর তিনি বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতির সঙ্গে এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।

প্রিয়া সাহা আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার কথোপকথন প্রকাশ পেলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। নিন্দার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।