প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর চাঁদার টাকায় তৈরি শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর চাঁদার  টাকায় তৈরি শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৩৭ সালে। শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফলাফলে এগিয়ে। মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ৫ বছর আগেই। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে থেকে ক্লাস করতে হতো। শ্রেণিকক্ষে বসার পরিবেশ না থাকায় পড়ায় মন বসতো না শিক্ষার্থীদের। কখনও খোলা আকাশের নিচে কখনও দাঁড়িয়ে থেকেই ক্লাস করতে হতো।  বিদ্যালয়ের এমন চিত্র দেখে ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মনে নাড়া দেয়। কারণ তারা তো এখান থেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত। নিজেদের সাধ্যমত আর্থিক চাঁদার টাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৈন্যতার কথা বিবেচনা করে দুই কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেডের একটি শ্রেণিকক্ষ তৈরি করলেও পারেনি সমাপ্ত করতে। আর এভাবেই এগিয়ে চলছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। এটি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের চাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা। জানা যায়, অনেকদিন যাবৎ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ না থাকায় দাঁড়িয়ে থেকে ক্লাস করতে হতো।

 এলাকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এবং এলাকাবাসী মিলে তাদের চাঁদার ১ লক্ষ টাকায় দুইটি শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট একটি টিন শেডের ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু ঘরের চালা থাকলেও নেই কোন বেড়া। কোনরকম ঘরের তিনপাশে তালাই দিয়ে আটকানো হলেও এখনও এক পাশে ফাঁকা পড়ে আছে। নেই কোন ফ্যান। এই গরমে তীব্র তাপমাত্রাতেও কোমলমতী শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে গরমে। গরমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। তবে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে আশা করছেন সকলেই। চাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর কবির জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪০১ জন। সবগুলো নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং ফলাফলেও অনেক ভাল।

 দেড় বছর আগে এলাকার প্রাক্তন শিক্ষার্র্থীরা মিলে তাদের চাঁদার টাকায় করে দিয়েছেন এই ঘর। তখন থেকেই এক রুমে প্রথম শ্রেণির ‘ক’ শাখা ও অন্য রুমে ‘খ’ শাখা এবং বিকেলে ‘ঘ’     শাখার ক্লাস চলছে। শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় এভাবেই পালাক্রমে আমাদের ক্লাস করাতে হচ্ছে। তারপরও আবার নেই ফ্যান। কোমলমতী শিক্ষার্থীদের অনেক গরমের মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুল জলিল প্রাং জানান, বিদ্যালয়টির মূল ভবন ৫ বছর আগে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। তারপর থেকেই নানা সমস্যায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। তবে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা ও আমরা সবাই মিলে নিজেদের চাঁদার টাকায় দুইটি শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেডের ঘর তৈরি করেছি। স্কুলের নতুন ভবনের জন্য চারতলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয়েছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়টিতে কাজ শুরু হবে। নতুন ভবন সম্পন্ন হলে আর শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে থাকতে হবে না।