প্রসূতিসেবায় দেশের সেরা স্বাস্থ্যকর্মী জুলিয়া নাসরিন

প্রসূতিসেবায় দেশের সেরা স্বাস্থ্যকর্মী জুলিয়া নাসরিন

নিজেরআলোয় ডেস্ক ঃ জুলিয়া নাসরিন। এখন স্বাভাবিক প্রসবে দেশের সেরা স্বাস্থ্যকর্মী। বছরের পর বছর গ্রামীণ জনপদের গর্ভবতী মায়েদের দিয়ে যাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবাসহ নিরাপদ প্রসবসেবা। তারই হাতের স্পর্শে যেন নিরাপত্তা খুঁজে পান গর্ভবতী মায়েরা। তার এমন নিবিড় সেবায় অজপাড়াগাঁয়ের মায়েদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন নিরাপদ প্রসবসেবার বাতিঘর হিসেবে। এ বছর প্রসবসেবা প্রদানকারী হিসেবে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার। শুধু তাই নয়, তার কর্মস্থল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলীপাড়া ক্লিনিকটিকেও এনে দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান। তার এমন ধারাবাহিক সাফল্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি এখন দেশসেরা রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রসূতিসেবায় বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকারী এ নারীর হাতে গত ৪ নভেম্বর ২০১৯ ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালী নার্সিং ইনস্টিটিউট ও গোপালগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে কমিউনিটি স্কিল বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) কোর্স সম্পন্ন করেছেন জুলিয়া নাসরিন। ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের অজপাড়াগাঁয়ের আমতলীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে যোগদান করেন। ছয় বছরে এ কমিউনিটি ক্লিনিকে এক হাজার ৪৭৪ জন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের নিরাপদ প্রসব হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ৩৯১ জন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২৩২ জন গর্ভবতী মা স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, জুলিয়া নাসরিনের যোগদানের পরই পাল্টে যেতে থাকে আমতলীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র। সন্তানসম্ভবা মায়েরা এ ক্লিনিকে স্বাস্থসেবার জন্য ছুটে যান। তিনি তাদের সবাইকে পারমর্শ দেন। সন্তান প্রসবকালীন তার হাতে এখন পর্যন্ত কোনো গর্ভবতী মা মারা যাননি। এমনকি মৃত নবজাতকও প্রসব হয়নি। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক (সিএসবিএ) জুলিয়া নাসরিন বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছি। সন্তান প্রসবের মতো জটিল কাজ করতে গিয়ে বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সন্তান প্রসবের কাজ শেষ হতে অনেক সময় রাত হয়ে গেলে ক্লিনিকের বেঞ্চিতেই ঘুমিয়ে পড়তাম। এতে একটুও কষ্ট অনুভব হয়নি; বরং একজন মা সন্তান প্রসবের পর সুস্থ থাকলেই আনন্দ পাই।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ‘আমতলীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অনেক দূরে। ফলে ওই এলাকার মানুষ এ ক্লিনিকটির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী জুলিয়া নাসরিন কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।’