প্রশ্নবিদ্ধ ডাকসু নির্বাচন

প্রশ্নবিদ্ধ ডাকসু নির্বাচন

দীর্ঘ ২৮ বছর পর সোমবার অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। উৎসবের অপেক্ষায় ছিল সব শিক্ষার্থী। কিন্তু ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকে শেষ পর্যন্ত নানা অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলায় ম্লান হয়ে যায় উৎসব। সোমবার সকালে ভোট শুরুর আধা ঘন্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয় একটা হলে বস্তাবন্দি সিলমারা ব্যালট পেপার। দফায় দফায় ভোট গ্রহণ স্থগিত আর প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্বাচন বর্জন ভোটের দিনের অস্বস্তিকর চিত্র। ঐতিহ্যের ডাকসু সক্রিয় হবে, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে ক্রীড়া-সংস্কৃতি সবক্ষেত্রে ডাকসু ভূমিকা রাখবে। কিন্তু নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণের আগে ও মাঝে যে ঘটনাগুলো ঘটল, তাতে সচেতন মহলকে হতাশই হতে হচ্ছে। ডাকসুর সাবেক কয়েকজন ভিপি ও জিএস গণমাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়ায় এমন একটি নির্বাচনে জয়ীরা নৈতিকভাবে নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারেন না বলে গণমাধ্যমে মন্তব্য করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জামান বলেছেন, দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এ নির্বাচন উৎসবমুখর হয়েছে। নির্বাচনের দিন দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই দাবি করেন। কিন্তু তার এই দাবি ভোট বর্জনকারীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবে তাদেরই বহন করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় গণতন্ত্রের সুতিকাগার। এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ডাকসু সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু এসব ঘটনা ডাকসুর ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত হবে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফেরানো যায়-তা নিয়ে ত্বরিত ভোট বর্জনকারী ছাত্র সংগঠন সমূহের সঙ্গে সংলাপে বসে একটা ঐকমত্য আসা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সব জানালা খুলে যাবে- এমনই প্রত্যাশা সবার।