প্রশ্ন ফাঁস রোধে কোচিং বন্ধ

প্রশ্ন ফাঁস রোধে কোচিং বন্ধ

এক মাস সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর সাতদিন আগে থেকে এগুলো বন্ধ রাখা হবে বলে জানান তিনি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কোচিং সেন্টার নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্কে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এ বছর মোট ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫১ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নেবে। সারা দেশে চারহাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা। এটা অনস্বীকার্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সম্ভ্রমের ওপর আঘাত হানছে। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষার আসল উদ্দেশ্য যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সন্দেহ নেই। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র অনুসরণ করে নকলবাজরা লাভবান হচ্ছে এটিও ধরে নেওয়া যায়। অন্যদিকে পরীক্ষা বাতিল হলে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীকে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হয়। যার কোনোটিই কাম্য হওয়া উচিত নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ চিত্র চরম অবক্ষয়ের। বিষয়টি লজ্জার এবং গ্লানির

। উদ্বেগের তো বটেই। ফলে এর পুনরাবৃত্তি রোধই কাঙ্খিত। এক শ্রেণির শিক্ষক নামধারী এবং মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা তার নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শিক অবস্থান বিসর্জন দিচ্ছে। সততার সংকট আগ্রাসী রূপ নেওয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। এক শ্রেণির কোচিং সেন্টারও এই প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। যারা ইতিপূর্বে গ্রেফতার হয়েছেন- তারাও স্বীকারোক্তিতে এমন কথা বলেছেন। তাই পরীক্ষার পূর্বে কোচিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে ফলপ্রসূ হতে পারে। প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাটাকেই আমূল বদলে দিতে হবে। সেটা কী করে সম্ভব তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিন। সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে দায়বোধ নিশ্চিত হয় এমন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।