প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং অবিচার...

প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং অবিচার...

মীর আব্দুল আলীম :এসএসসি পরীক্ষা বাতিল হবে কি, হবে না তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক এবং দেশ জুড়ে তা নিয়ে হৈ চৈ চলছে। ২/১টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকলে, প্রশ্ন ফাঁস কে করলো? কাদের দায়িত্ব ছিলো প্রশ্ন ফাঁস রোধের? পরীক্ষা বাতিলের আগে ২০ লাখ শিক্ষার্থীই ফাঁসকৃত প্রশ্ন পরীক্ষা দিল কিনা তদন্ত কমিটিকে তা কিন্তু আগে খতিয়ে দেখতে হবে। অবশ্যই তা প্রমাণ করতে হবে তাঁদের। তা না হলে কার সাজা কাকে দেবেন আপনারা? সবার আগে যারা প্রশ্ন ফাঁস করেছে তাদের খুঁজে বের করুন, যারা প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যর্থ তাদের চিহিৃত করুন, সাজা দিন। কাঠের চশমা চোখে দিয়ে ওদের খুঁজলে কিন্তু হবে না। পরিষ্কার দিল মনে ওদের খুঁজুন। পেয়ে যাবেন। ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। প্রশ্ন ফাঁস রোধ হবেই হবে। যারা প্রশ্ন ফাঁস করলো, যাদের কারণে প্রশ্ন ফাঁস হলো তাদের সাজা আগে না দিয়ে গুটি কয়েক ভোক্তার (শিক্ষার্থী) কারণে সকল শিক্ষার্থীদের সাজা আপনারা কিছুতেই দিতে পারেন না। এটা আইনের বরখেলাপ হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। যারা ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়নি এর সংখ্যাই অনেক বেশি। পরীক্ষা বাতিল হওয়া অর্থই কোমলমতি শিশুদের উপর অন্যায় করা। এদের উপর অন্যায় করা হলে তা হবে রাষ্ট্রীয় অনাচার। এর জন্য শিক্ষার্থীরা, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ আইনের আশ্রয় নিলে আপনারা তখন কোথায় যাবেন?

আমাদের কপালের দোষ, তাই দেশে প্রশ্ন ফাঁস হয়। এখন বেশি বেশি হচ্ছে। রোধ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের?  এসএসসির পরীক্ষার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন প্রশ্ন ফাঁস হলে প্রয়োজনে  ১০ বার পরীক্ষা বাতিলের কথা বললে দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ফাঁসের পর ঢালাওভাবে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত কতটুকু সঠিক ছিলো? অন্য কেউ অপরাধ করলে, সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে- এর দায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কেন নেবে? প্রশ্ন ফাঁসের অপরাধে গুটি কয়েক মানুষ জড়িত। এ অপরাধতো গোটা পরীক্ষার্থীদের নয়। তবে তারা কেন শাস্তি পাবে? প্রশ্ন ফাঁস রোধ না করতে পারার দায় এড়াতে সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল ‘উদোরপিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর মতই। প্রশ্ন ফাঁস হবে, রোধ হবেনা আর যারা কষ্ট করে সারা বছর পড়াশুনা করে পরীক্ষা দিলো তাদের কষ্ট জলাঞ্জলি দিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হলে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।  

প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে পারবেন না আবার পরীক্ষা বাতিল করবেন? এটা কি হয়? বিগত বছরগুলোতে আমরা কি দেখেছি? শিশু  থেকে বড় সকলের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। রোধ করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যর্থ হয়ে সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলের মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে কোমলমতি শিক্ষারর্থী ও অভিভাবকদের হতাশ করেছে। এতে প্রকৃত শিক্ষারর্থীদের পরীক্ষা শুরুর আগেই মানুষিক চাপ তৈরি হয়েছে। এটা করা কতটা উচিৎ হবে তা সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। প্রশ্ন ফাঁসের আমাদের যে অভিজ্ঞতা তাতে দেশে অনুষ্ঠিত অনেক পরীক্ষাই বাতিল করতে হবে। পরীক্ষা বাতিল নয় আগে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকান। এটা কঠিক কাজ নয়। প্রশ্ন ফাঁস ছাড়া আগে অনেক পরীক্ষা হয়েছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং অপরাধীদের চিহিৃত করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করলে প্রশ্ন ফাঁস রোধ হবে। প্রশ্ন হলো এখন কেন এতো হরেদরে প্রশ্ন ফাঁস হয়?

প্রশ্ন ফাঁস কেন হয় এর উত্তর কিন্তু আমাদের জানা। যারা প্রশ্ন ফাঁস করে তাদের কেউ কেউ ধরাও পড়ে বলে জেনেছি। ওদের সাজা কি হয়? কেন হয় না? আইন প্রয়োগ হয়না বলেই প্রশ্ন ফাঁসের  ঘটনা ঘটছেতো ঘটছেই। রোধ করা যাচ্ছে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হলো কেন? সংশ্লিষ্টদের তাবদ হুঙ্কার, আশ্বাস, ভবিষ্যদ্বাণী সবটাই যেন অকার্যকর মনে হচ্ছে। সব কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠছে। এতে আমরাই লজ্জা পাচ্ছি। সংশ্লিষ্টরা লজ্জিত কিনা তাই এখন প্রশ্ন? বাজে একটি ঘটনা বারবার ঘটছে তাও আবার শিক্ষা ক্ষেত্রে এটা কি করে সম্ভব? সংশ্লিষ্টরা কি না দেখার ভান করছেন? সবাই জানে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। পরীক্ষার্থী, অভিভাবকরাও বলছেন, যে প্রশ্ন তারা অনলাইনে পেয়েছে তার সাথে পরীক্ষা নেয়া প্রশ্নে পুরোপুরি মিলও আছে। সবাই দেখছেন, জানছেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেন দেখছেন না? প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্পষ্ট হলেও সংশ্লিষ্টরা এর দায় কেন নিচ্ছেন না? এমনটা চলতে থাকলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে, শিক্ষার মান বলে কিছু থাকবে না। প্রকৃত শিক্ষিত জাতি থেকে বঞ্চিত হবে দেশ। আর তা দেশের জন্য ভয়ানক একটা সংবাদ।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নতুন কোন উপসর্গ নয়। নিয়মিত ঘটনা। তবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কথা আগে শুনিনি। এবার শিশুদের প্রশ্নপত্রও ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় বলা যায় এ ক্ষেত্রে ষোলকলা পূর্ণ হলো। প্রশ্নপত্র নিয়মিত ফাঁস হচ্ছে; রোধ হচ্ছে না কেন? সরকার জঙ্গি দমন করতে পারছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারছে, বিশ্বব্যাংকে উপেক্ষা করেই পদ্মা সেতুর মতো কঠিন কাজগুলো করতে সক্ষমতা দেখাচ্ছে সরকার। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের  ঘটনায় রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে কেন? সংশ্লিষ্টরা কি এর দায় এড়াতে পারেন? প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী পরীক্ষায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের  ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। আমাদের ছাত্র জীবনেও প্রশ্ন ফাঁসের  ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তখন কেউ হঠাৎ প্রশ্নপত্র পেলেও অল্প সময়ে এক জায়গা হতে আরেক জায়গায় পাঠানো দুঃসাধ্য ছিল। তথ্য প্রযুক্তির কারণে এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হয়েছে। কথায় আছে, কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র ফাঁস সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। প্রশ্নপত্র বিতরণে ভিন্নতা আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কৌশলী হতে হবে। প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে পরীক্ষার দিন সকালবেলা প্রশ্নপত্র ছাপানো এবং বিতরণ করা যায়। গণিত প্রশ্ন ফাঁসের  পর প্রশ্ন ফাঁস রোধে পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র স্থানীয়ভাবে ছাপা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বিবৃতি দিয়েছেন। বছর তিনেক আগে আমি প্রশ্ন ফাঁস রোধে আমার লেখা কলামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়েকটি সুপারিশ করেছিলাম। তখন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও এ জাতীয় সুপারিশ পেশ করেন। তা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় উদ্যোগীও হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও সে সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা যায়। আলোচিত সৎ এবং সাহসী মেজিস্ট্র্যাট রোকন-উ-দ্দৌলার মতো সরকারি আমলাদের এখানে কাজে লাগাতে হবে। যথা নিয়মে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশ্নপত্রের নমুনা কপি সংগ্রহ করা হবে। পরীক্ষার রাতে ওইসব সৎ আমলাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল সংগৃহীত প্রশ্নপত্র থেকে বেছে বেছে নতুন প্রশ্নপত্রের সেট তৈরি করবেন। সেখান থেকে পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রগুলোতে ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠাতে হবে। কেন্দ্রে আধা ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীদেরও প্রবেশ করাতে হবে। এ সময়ে প্রিন্টারে প্রশ্ন প্রিন্ট করে পরীক্ষার হলে সরবরাহ করতে হবে। তাতে সুফল মিলতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার জন্য একটি সেন্ট্রাল সার্ভার থাকবে। পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় সার্ভার হতে পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা ট্যাব বা কম্পিউটারে প্রশ্ন পৌঁছে দিতে হবে। অথবা ই-মেইলেও এ কাজটি করা যায়। এক ক্লিকেই কয়েক প্রশ্ন ই-মেইল

পাঠানো সম্ভব। দেশের সবচাইতে বড় পাবলিক পরীক্ষা হলো পিএসসি। এই পরীক্ষার জন্য প্রযুক্তিগত কাঠামো ১২-১৫ কোটি টাকার মধ্যেই গড়া সম্ভব এবং শুধু পিএসসি কেন, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসিসহ যে কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ছাড়া বর্তমান প্রশ্নপত্র ছাপা এবং পাঠানোর খরচও অনেক বেশি পড়ে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠালে বর্তমানের তুলনায় খরচ কয়েকগুণ কম হবে তাতে সন্দেহ নাই। বর্তমানে উন্নত পৃথিবীতে পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু আছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এদেশেও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব। আসল প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্টরা সমাধান চাইছেন কিনা?

প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার শাস্তি ন্যুনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ডসহ অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। কতবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো ক’জনকে এ শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে? পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এবং সংশোধনী ১৯৯২-এর চার নাম্বার ধারায় এই শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এমনকি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তাই শাস্তির এ বিধান সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন না। প্রশ্ন ফাঁসের পর তদন্ত কমিটি হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ প্রমাণিত হয় কিন্তু শাস্তি হয় না। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে বারবার একই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, ১৯৭৯ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ওই সময় থেকে ২০১৭ সাল পর্যস্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৮২ বার বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরি ও পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ২০১৪ সালের জেএসসি, পিএসসি, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ২০১৫ সালে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালেও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের  ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের পিএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের  ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন ফাঁসের  তথ্য পরিসংখ্যান বেসরকারি হিসাবে সংখ্যা আরো বাড়বে। এর মধ্যে পরীক্ষা স্থগিত, বাতিল ও তদন্ত কমিটি হয়েছে মাত্র ৩০টি পরীক্ষায়। তদন্ত কমিটি হোতাদের চিহ্নিত করে প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিভিন্ন সুপারিশ করলেও কোনোটিরই বাস্তবায়ন হয়নি। কারো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও হয়নি। বহু তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে না।

সর্বশেষ বলবো, প্রশ্ন ফাঁসের ফলে একটি নীতিহীন সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা আর চলতে দেয়া যায় না। অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সবার মধ্যেই একটি ব্যাধি সংক্রামক আকারে বাড়ছে। এটা রোধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে একটি নীতিবিবর্জিত প্রজন্ম উপহার দেয়ার মতো বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই আর বিলম্ব করা ঠিক হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর শাস্তি নিশ্চিত প্রয়োজন মনে করি।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও সম্পাদক
নিউজ-বাংলাদেশ ডটকম,
newsstore13@gmail.com  
০১৭১৩-৩৩৪৬৪৮