প্রশাসনে চলছে আ’লীগ হওয়ার প্রতিযোগিতা

প্রশাসনে চলছে আ’লীগ হওয়ার প্রতিযোগিতা

প্রশাসনে এখন আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। তিনি বলেছেন, এখন রাস্তায় হাঁটতে গেলে কারো গায়ে ধাক্কা লাগলে বলে আমি আওয়ামী লীগ করি, পার্কে হাঁটতে গেলে বলে আমি আওয়ামী লীগ করি। এটা ভালো লক্ষণ না।

মঙ্গলবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, প্রশাসনে এখন সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের বাইরে প্রশাসনে কাউকে পাওয়া যাবে না। এরা কোথায় ছিল? কে তাদের আওয়ামী লীগ বানিয়েছে? তাদের আওয়ামী লীগটা করল কে? প্রশাসনে আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কে কত বড় আওয়ামী লীগ এটার জন্য গবেষণা চলছে। কার নানার বাড়ির কাছে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ছিল। কার চাচার সঙ্গে কার বিয়ে হয়েছিল এসব দিয়ে আওয়ামী লীগ বের করার চেষ্টা হচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগের বাইরে কাউকে পাওয়া যায় না। আসল আওয়ামী লীগ নকল আওয়ামী লীগ বেছে নেওয়া কঠিন হবে। তাদের দাপট এতো বেশি বেড়ে গেছে সাধারণ মানুষকে তারা তোয়াক্কা করে না। তারা ধরাকে ছাড়া মনে করে না। তারা তাদের ইচ্ছামতো কাজ করছে, এটা ভালো লক্ষণ না।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে ফিরোজ রশিদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক দর্শন নেই, রাজনৈতিক দর্শন নেই। তাই এই বাজেটকে ‘বাজেট’ বলা যায় না। অর্থমন্ত্রী যে দলের পক্ষ থেকে বাজেট দিয়েছেন সেই দলের নীতি-আদর্শ, দর্শনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বাজেট দিয়েছেন। এই বাজেটে বিষ আর মধু একসঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দেশের জনগণ তো বিষ আর মধু এক সঙ্গে খায় না।

তিনি বলেন, আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। পাকিস্তান আমলে ২২ ধনী শ্রেণীর পরিবর্তে এখন ১২২ ধনিক পরিবারের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মোট সম্পদের ৮০ ভাগ ১২২ পরিবারের হাতে জিম্মি আর বাকি ২০ ভাগের মালিক অন্য সব জনগণ। অর্থমন্ত্রী এই ধনিক শ্রেণীর জন্যই বাজেট দিয়েছেন। যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে ব্যাংক খালি করে দিয়েছেন তাদের সুবিধা দিতেই এই বাজেট। উনি ব্যাংক ডাকতদের সুবিধা দিয়ে বাজেট দিয়েছেন, এটা হতে পারে না। উনি বাজেটের দর্শনই নষ্ট করে দিয়েছেন। এই আমরা মানতে পারি না।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) বলেন, হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ঠিকমতো না পেলে মানুষ অন্য চোখে দেখে। ব্যাংক খাত নিয়ে আমরা সংসদ সদস্যরা এতো কথা বলার পরেও অর্থমন্ত্রীর নিশ্চুপতা আমাদেরকে হতাশ করেছে।