প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছিল, তা অব্যাহত থাকবে বলে সবাইকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার গঠনের বর্ষপূর্তিতে গত মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে উল্লেখ করে দল মত নির্বিশেষে সবাই মিলে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে শপথ নেওয়ার আহবান জানান। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অনেক বিষয় তুলে ধরেছেন, যার সবই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে যেমন আগামীর পথে আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার সরকারের করণীয় বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। তেমনিভাবে তিনি সরকারের বিগত সময়ের সাফল্য, ব্যর্থতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের এক বছর পূর্ণ হলো। বিগত এক বছর চেষ্টা করেছি জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। সব ক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি তা দাবি করা যাবে না।

কিন্তু এটুকু জোর দিয়ে বলা যায়, চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। অতীতের ভুল ও ভ্রান্তি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। সবার সহযোগিতায় সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে। বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যা, ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব প্রশমনে দীর্ঘসূত্রতা বা পেঁয়াজের আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তার বক্তৃতায় এসেছে। শেখ হাসিনা এসবের পুনরাবৃত্তি রোধে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিরোধী দল ও অন্যদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে  যে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ কঠোর হাতে দমনের কথাও বলেছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে আমরা সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানব কল্যাণের পক্ষে বর্তমান সরকারের অবস্থান প্রশংসনীয়। সরকারের বর্ষপূর্তিতে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি, প্রত্যাশা থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।