প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চান আন্দোলনকারীরা

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চান আন্দোলনকারীরা

টানা চতুর্থ দিনের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেত হয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের আন্দোলন চালিয়ে আসা শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ‘সুনির্দিষ্ট ঘোষণা’ চান।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের প্ল্যাটফারম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বলেছে, কোট কোটা কত শতাংশ কমানো হবে- সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসা না পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন চলবে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকরির সব কোটা তুলে দিচ্ছেন এবং সন্ধ্যায় সংসদে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষ থেকে ফেইসবুকে বার্তা দেওয়া হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবস্থান চলছে।

আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, “আমরা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগের স্ট্যাটাস দেখেছি। অন্য কারও মুখ থেকে নয়, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ও সরাসরি সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াব না।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোববার রাতভর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর সোমবার সচিবালয়ে সমঝোতা বৈঠকে ৭ মের মধ্যে কোটা ব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওই প্রতিশ্রুতিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলে সাময়িক বিভক্তি তৈরি হয়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আবারও একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

সে অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে সারা দেশে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় নামে। বিভিন্ন কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের অবরোধে অচল হয়ে যায় রাজধানীর রাজপথ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের নিচে জড়ো হতে শুরু করেন সকাল ৯টার দিকে। সকাল ১০টার দিকে ওই জমায়েত জনস্রোতের রূপ পায়।

সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারের সামনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, কোটা কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং সড়ক অবরোধের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।

সরকারের মন্ত্রীদের বিভিন্ন ধরনের বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রাশেদ আবারও বলেন, গত রোববার রাতে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের মধ্যে উপাচার্যের বাসভবনে হামলার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।

“তারা সুবিধাভোগী ও অনুপ্রবেশকারী। আমরা তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।” এ আন্দোলনকে যারা ‘বিতর্কিত করার চেষ্টা’ করবে, তাদের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে বলেন  ছাত্র অধিকার পরিষদের এই যুগ্ম আহ্বায়ক।

আন্দোলনরতরা জানান, কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীদের ওপর এক ছাত্রলীগ নেত্রীর নির্যাতনের ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত থেকে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সেই সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য প্রত্যাহার করারও দাবি জানাচ্ছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা জানাতে ঢাকা মেডিকেল, স্যার শলীমুল্লাহ মেডিকেল, ডা. শিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজসহ বেশকিছু সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে আসেন সকালে।

স্যার শলীমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, “৫৩০ সিট মেডিকেলের জন্য। কোটাধারীরা পাঁচ হাজারের বাইরে থেকেও ভর্তি হয়েছে, অথচ ৫৩৫তম হয়েও মেধাবীরা ভর্তি হতে পারেনি। মেধাবীদের অভাবে দেশের যোগ্য চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে না।”

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে আন্দোলনকারী ছাত্রীর ওপর নির্যাতনেরও ‘নিন্দা’ জানান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস তানহা বলেন, “রাতে ছাত্রীদের ওপর হামলার সংবাদ শুনে প্রচন্ড অসহায় বোধ করছিলাম। ছাত্রীদের এমন দুরাবস্থা দেখে মনে হয়েছে ওদের আমার কাছে নিয়ে আসি। সরকার শিক্ষার্থিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাই।”