প্রতিবন্ধীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিন

প্রতিবন্ধীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিন

অস্টিটিকদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ ও সমাজে তাদের মর্যাদাপূর্ণ জায়গা করে দেওয়ায় ভূমিকা রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অটিজমের বিষয়ে আমাদের সমাজকে আরো সচেতন হতে হবে। তাদের (অটিস্টিক) পাশে দাঁড়াতে হবে। এটা কারো জন্মের দোষ না, আল্লাহ মানুষকে বিভিন্নভাবেই সৃষ্টি করেন। কাজেই সেটাকে অবহেলার চোখে দেখা ঠিক না।

“যারা অটিস্টিক, তাদেরকে অবহেলা নয়, তারা আমাদের সমাজের অংশ। তাদের সুপ্ত প্রতিভাগুলি আমাদের বিকশিত হবার সুযোগ করে দিতে হবে। আর সমাজে তাদের একটা সুন্দর স্থান করে দিতে হবে।”

সদ্য প্রয়াত বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানি স্টিভেন হকিংসহ অনেক প্রতিভাধর ব্যক্তির কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন, যারা প্রতিবন্ধী হয়েও মানবতার কল্যাণে অসামান্য অবদান রেখেছেন এবং রাখছেন।

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধিদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মনে করি, সুস্থ মানুষ যা পারে না অনেক ক্ষেত্রে তার থেকে তাদের অনেক ভাল প্রতিভা রয়েছে।”

সরকার অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধিদের জন্য ‘সবরকম সুযোগ করে দিতে’ কাজ করে চলেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একসময় অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধি সন্তানের জন্ম হলে জন্মদাতা মাকে পারিবারিক ও সামাজিক নিগ্রহের মধ্য দিয়ে যেতে হত। অনেকে অটিস্টিকদের ঠিকমত চিকিৎসা করাতেন না।

“মানসিকতা পরিবর্তন করে সবাইকে আরো সংবেদনশীল হয়ে, আরো সহানুভূতিশীল হয়ে এদেরকে আদর-ভালবাসা দিয়ে কাছে টেনে নিতে হবে।”

নিজের মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের প্রচেষ্টায় দেশে-বিদেশে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানান তিনি।

বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শক প্যানেলের সদস্য।

অটিজমে আক্রান্তদের কল্যাণে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

‘নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন, হোক না তারা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন’ শিরোনামে বিশ্ব অটিজম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অটিস্টিকদের জন্য আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন, ট্রাস্ট গঠন, ভাতা প্রদান ও বই বিতরণসহ তার সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধিদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহ দিতে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন শুভেচ্ছা কার্ডে তাদের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অটিস্টিকদের সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই অটিস্টিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে।”

অটিস্টিকদের শিশুদের চিকিৎসার বিষয়ে শুরু থেকেই মনোযোগী হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া স্কুলে সহপাঠীদের মধ্যে অটিস্টিকদের প্রতি সহানুভুতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদেশি স্কুলের উদাহরণ টানেন তিনি।

বাংলাদেশেও অভিভাবক, শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে এদের আচার-আচরণ বিষয়ে আরো সচেতন করে তোলার উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা অটিস্টিক এবং তাদেরকে পেছনে অবদান রাখা বেশ কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে অটিস্টিকদের পরিবেশন করা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন তিনি।