প্রকৃতির সাথে লড়াই করে যে শিশুদের স্কুলে যেতে হয়

প্রকৃতির সাথে লড়াই করে যে শিশুদের স্কুলে যেতে হয়

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চরের শিশুদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। এ যেন শিক্ষার জন্য যুদ্ধ। তারপরেও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আশে-পাশে কোন মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চারটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ এবং তিনটি ইউনিয়ন আংশিক যমুনার চরগ্রাম নিয়ে গঠিত। এসব চরের মানুষ আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কিছু চরগ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নেই কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আর যে সব চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেসব বিদ্যালয়ে শিশুদের যেতে বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে। উপজেলার কর্ণীবাড়ি ইউনিয়নের নান্দিনা একটি বৃহৎ চরগ্রাম। কর্ণীবাড়ি, বোহাইল, কাজলা এবং চালুয়াবাড়ি পাশাপাশি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নগুলো যমুনা নদী বেষ্টিত। এক চরগ্রাম থেকে অন্য চরগ্রামে যেতে পাড়ি দিতে হয় ভয়াল নদী।গত বৃহস্পতিবার নান্দিনা চরগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দল বেঁধে শিশুরা নান্দিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছে। ২০১৩ সাল থেকে এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু করা হয়েছে। এই স্কুলের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে আরও ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

 তবে ওইসব স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষার্থীদের এই স্কুলে এসে ভর্তি হতে হয়। নয়তো লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। অন্তত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে পারবে এই আশায় শিক্ষার্থীরা প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলটিতে আসে। নান্দিনা নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরভী জাহান, কোহিনুর বেগম, শাপলা খাতুন জানান, তারা শংকরপুর ও মূলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে এই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। স্কুলে আসতে যেতে তাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। বন্যার সময় অনেকেই বিদ্যালয়ে আসতে পারেনা। অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পর সারিয়াকান্দি সদরের কোন উচ্চ বিদ্যালয় অথবা ১০ কিলোমিটার দূরের শোনপচা উচ্চ বিদ্যালয় নয়ত জামালপুর জেলার মাদারগজ্ঞ উপজেলার ফুলজোড় উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। চরের গরিব বাবা-মার পক্ষে এতো দূরের স্কুলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চালানো সম্ভব হয়না। ফলে অনেকের পড়া-লেখা বন্ধ হয়ে যায়। কর্ণীবাড়ি ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান খোকা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তায় নান্দিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করা হয়েছে। এতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্থানীয়দের লেখাপড়া চললেও এরপর অনেকের আর তা সম্ভব হয়ে উঠেনা। এখানে সরকারিভাবে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, কিছু চরে উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। চরের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার পথ সুগম করতে আগামিতে আরও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।