পোশাক রফতানিতে সুবাতাস

পোশাক রফতানিতে সুবাতাস

বড় বাজার, শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে দেনদরবারসহ নানান কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের আলোচিত বাজার। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানিতে তেমন গতি ছিল না। তবে সম্প্রতি পাল্টেছে। চলতি অর্থ বছরের গেল ছয় মাসে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৯ শতাংশের মতো। গত অর্থ বছরে একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ শতাংশের কিছু কম। রফতানিতে বড় ধরনের উন্নয়নের ফলে জার্মানিকে টপকে আবার একক বড় বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্র। দেড়বছর আগে প্রধান বাজার হিসেবে জার্মানির কাছে শীর্ষস্থান হারায় দেশটি। বড় অংকের রফতানি বৃদ্ধির ফলে পোশাক রফতানির মোট আয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ১ শতাংশ বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে বিজিএমইএ সূত্র বলছে, দুই ক্রেতাজোটের তত্ত্বাবধানে সংস্কারের ফলে ক্রেতারা এখন বাংলাদেশের পোশাক নিয়ে অনেক উচু মানের ধারণা পোষণ করেন।

বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম নিয়ে দেশটির ক্রেতাদের আস্থা অনেক বেড়েছে। আবার চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধ থেকেও সুবিধা পাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা চীনের বাইরে বিকল্প বাজার খোঁজা শুরু করেছে। এর সুফল দেখা যাচ্ছে রফতানি বাণিজ্যের চিত্রে। বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, রপ্তানি বাজার ও পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সরকারের প্রচেষ্টা আরো বাড়াতে হবে, প্রতিযোগিতার বিশ্ব বাজারে রফতানি খাতকে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বিষয়গুলো নিয়ে গভীর বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে সব পক্ষ মনোযোগী হবে এবং তৈরি পোশাক শিল্পে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া আমাদের স্বার্থেই এগিয়ে নিতে হবে।