পোশাক খাতে সংস্কার

পোশাক খাতে সংস্কার

সংস্কারে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ ২১৯ কারখানা রফতানির সুযোগ হারাতে পারে। এসব কারখানাকে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) সনদ না দিতে পোশাক খাতের রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ কে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সংস্থার সহযোগিতা দিয়ে কারখানাগুলোকে উৎপাদন ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করা হচ্ছে। পোশাক খাতের মূল সংস্কার চলছে বিদেশি ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে। দুই জোটের ক্রেতারা যেসব কারখানা থেকে পোশাক কিনে থাকেন, এরকম দুই হাজার ১৯৭ কারখানার প্রাথমিক পরিদর্শনে চিহ্নিত ত্রুটির সংস্কার এখন শেষ পর্যায়ে। জোটের বাইরে অন্য ক্রেতাদের রফতানি আদেশ সরবরাহ করা হয় -এরকম কারখানার সংখ্যা এক হাজার ৮২৭টি। তবে প্রাথমিক পরিদর্শনে বাদপড়া এবং অনেক কারখানা নিজেরাই বাদ করে দেওয়া সহ বিভিন্ন কারণে ডিএফআইর অধীনে কারখানার সংখ্যা এখন ৮০৯টি। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করছে। পূর্বে ৩৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ রপ্তানি আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষভাবে চল্লিশলাখ শ্রমিক এই শিল্পে কাজ করছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। ২০১২-১৩ সালের মধ্যে পাঁচটি বড় দূর্ঘটনায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয় সারাবিশ্বে। এর পরপরই বিদেশি ক্রেতারা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গার্মেন্টস খাতে সংস্কার কাজ শুরু করে ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। আমাদের শ্রমিকরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যা তাদের অন্যান্য অসন্তোষের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গার্মেন্টস সেক্টরে সমস্যা অনেক। তবে অব কাঠামো এবং পরিবেশগত নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই জরুরি। আমাদের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে সব পক্ষ মনোযোগী হবে এবং তৈরি পোশাক শিল্পে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া আমাদের স্বার্থেই এগিয়ে নিতে হবে।