পোলট্রি শিল্পে সম্ভাবনা

পোলট্রি শিল্পে সম্ভাবনা

আমাদের আমিষ চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী পোলট্রি শিল্পে এখন চলছে অস্থিরতা। লাগামহীনভাবে বাড়ছে খাবারের দাম। অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন স্বল্প পুঁজির খামারিরা। চরম বিপর্যয়ে অসহায় প্রায়  ৬০ হাজার প্রান্তিক খামারি। হুমকিতে পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। পোলট্রি শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন এ শিল্পে বর্তমানে অস্থিরতা বিরাজমান আছে। চাহিদা কমে গেছে। ফলে খামার পর্যায়ে প্রায় ৭০ টাকা দামের ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ২০ টাকায় বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বড় ধাক্কা দিয়েছে প্রান্তিক খামারীদের। আগে যেখানে এক লাখ ২০ হাজার খামার ছিল, তা এখন কমে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার হয়েছে। হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবে পোলট্রি ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম লাগামহীন ভাবে বাড়ছে। পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নানা জটিলতার কারণেও এসব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।

দেশীয় পুঁজি এবং দেশীয় উদ্যোগে তিলে তিলে গড়ে ওঠা পোলট্রি শিল্প আমদানি হওয়া কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ গ্রামীণ অর্থনীতিতে, নারীর ক্ষমতায়নে কৃষির পরই বড় অবদান রাখছে এ শিল্প। পোলট্রি শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, পোলট্রি শিল্পে সরাসরি প্রায় ২৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে আরো প্রায় ৩৫-৪০ লাখ মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ২০৩০ সাল নাগাদ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে পোলট্রি শিল্পে মোট বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা। অল্প মূলধন নিয়ে এই শিল্প গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হওয়া তুলনামূলক সহজ বলে অনেকেই চাকরির প্রতি নির্ভরশীলতা কমিয়েছে। তাই দেশের মধ্যেই এই শিল্পের যথাযথ উন্নয়নে সুষ্ঠু নজরদারি রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহ কর্তৃপক্ষ ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত হয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।