পেঁয়াজের দামে ঝাঁজ

পেঁয়াজের দামে ঝাঁজ

আবার উর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের দাম। বগুড়ার বাজারে এখন ৫০ টাকার পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু একটি ঘোষণাকে পুঁজি করে দুদিনেই বেশ পোয়াবারো অবস্থা দেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের। সেই ঘোষণাও যে নিজেদের তা নয়, আসে ভারত থেকে। প্রতিবেশি দেশটির পেঁয়াজের ন্যূনতম রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়ে অনেকটা রাতারাতিই বিপুল মুনাফা করলেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। গত শুক্রবারের সিদ্ধান্তের পর প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে তারা। অথচ নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যের সংগ্রহ মূল্যে এখনও পর্যন্ত কোন পরিবর্তন হয়নি। এমনকি নতুন দরের ভারতীয় পেঁয়াজ এখনও দেশে পৌঁছেনি। সরবরাহ ও চাহিদাতেও কোন হেরফের হয়নি। শুধু একটি ঘোষণার সুযোগ নিয়ে গত তিন দিনে দেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শুধু এবারই প্রথম তা নয়, প্রায় বছরই কোন অজুহাত পেলেই পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা যখন-তখন দাম বাড়িয়ে দেন। ভোক্তা অধিকার সংগঠন বলছে এভাবে দাম বাড়ানো অনৈতিক।

ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মানুষের পকেট কাটছে বলে অভিযোগ করে। আমরা জানি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও বিবিধ অব্যবস্থানার কারণে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সবসময়ই সুযোগ নিয়ে থাকে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারসাজি করে নিজেদের পকেট স্ফীত করার ধান্ধায় থাকেন, ফের তা-ই প্রমাণিত হলো। এ ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা তিক্ত। শুধু পেঁয়াজ নয়, সব নিত্যপণ্যের ব্যাপারে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু এখানে বাজার অর্থনীতির নিয়ম মেনে দাম বাড়ে না। অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কথাও সরকারকে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে পণ্য বিপণন ও সরবরাহ নিয়ে। অন্যথায় বাজারকে বাগে রাখা যাবে না। সরকারের উচিত সাধারণ ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাহলেই বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম কিছুটা কমবে।