পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শংকা বাড়িয়ে দিচ্ছে

পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শংকা বাড়িয়ে দিচ্ছে

মোঃ মামুন-উর-রশিদ :প্রতি বছর বিশে^র তাপমাত্রা বৃদ্ধি হয়ে চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে এটাই আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, মেরু অঞ্চলের হিমালয়সম বরফের পাহাড়গুলো গলে যাবে, বৃদ্ধি পাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা এবং উপকূলীয় এলাকার নি¤œভূমিগুলো আংশিকভাবে সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হবে। জমিগুলো হারিয়ে ফেলবে শস্য উৎপাদন ক্ষমতা, সংকট হবে সবুজ  বনভুমি। সম্প্রতি লন্ডন ভিত্তিক একটি ইংরেজি দৈনিক-এ বিশ^বিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক বিশে^র তাপমাত্রা বৃদ্ধির ব্যাপারে এ ভবিষ্যৎবাণী করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী শতাব্দীতে দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করেছেন। এটা হলে সারাবিশে^র গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে উত্তর মেরু অঞ্চলে দুই থেকে ছয় ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বেশি মাত্রায় বরফ গলে যাবে। এতে উত্তর মেরু অঞ্চলে বরফ অনেকাংশে গলে বরফের আবরণ অনেকটা হালকা হবে এবং সেখানকার পরিবেশের উপর প্রবলভাবে প্রতিক্রিয়া হবে। ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা অনেক অনেক হারে বৃদ্ধি পাবে। এর নমুনা দেখেছি গত শতাব্দীর শেষ দশকে তিনবছর এই তাপমাত্রা অধিকহারে বৃদ্ধি।

আবহাওয়াবিদদের ভবিষ্যত বাণীতে বলা হয়েছে, এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা প্রায় ১ মিটার বেড়ে যাবে এবং এর ফলে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলোর নি¤œ ভূমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে। যদিও অনেক পরিবেশ বিজ্ঞানী এ তাপমাত্রাকে সাময়িক বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক আর একটি জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে পৃথিবীতার নিজের অক্ষের উপর আগের চেয়ে কম গতিতে আবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে আস্তে আস্তে দিনের দৈর্ঘ্য বেড়েই চলছে।  

বিজ্ঞানী আরো উল্লেখ করেছেন যে, সাগরের পানি ও বাতাসের উত্তাপ বৃদ্ধি ও তার ফলে বরফ গলে পৃথিবীর তাপমাত্রা আরো দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পৃথিবীতে মরুময়তা বৃদ্ধির আশংকা দেখা দিচ্ছে। পৃথিবী হয়ে উঠছে বসবাসের অনুপযোগী। পাশাপাশি মহাবিশে^র ওজোনস্তর হালকা হচ্ছে। অথবা ওজোনস্তর ফুটো হয়ে যাচ্ছে।যার ফলে সূর্যের তাপমাত্রায় তিনটি ওজোনস্তর ভেদ করে পৃথিবীতে সরাসরি আসতে শুরু করছে ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা এমন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করছে মনে হচ্ছে পৃথিবী আস্তে আস্তে বসবাসের অনুপযোগী হচ্ছে দিনের পর দিন। এখন প্রশ্ন হলো, কি ভাবে ওজোনস্তর পাতলা হচ্ছে, এক প্রশ্নের উত্তর একজন আবহাওয়া বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, বিশ^জুড়ে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির  চলমান প্রক্রিয়া বিদ্যমান।এর ফলে পৃথিবীর আবহাওয়ার উত্তাপ বৃদ্ধি পেলেও আবহাওয়া মন্ডলের উপর যে ওজোন স্তরের

উত্তাপ কমে যায়। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি ১০-১২ বছরে ওজোন স্তরের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস করে কমে যাচ্ছে। যার ফলে জমাটবাঁধা মেঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং এসব মেঘের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হবে। এসব মেঘ বাতাস থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড শুষে নিবে। যা ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাসকে নিস্ক্রিয় করে ওজোনস্তরের ক্ষতি ঠেকিয়ে রাখতে পারে।  কিন্তু এই মেঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের মধ্যে নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস এর পরিমাণ কমে গেলে সিএফসিসহ অন্যান্য গ্যাস ওজোনস্তরকে ধ্বংস করবে। ওজোন স্তরের যে সংকটময় সময় অতিক্রান্ত করছে গত কয়েক যুগ থেকে যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চুক্তিও সাক্ষরিত  হয়েছে। যাতে ওজোনস্তর ধ্বংসকারী গ্যাস উৎপাদনকারী উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ প্রবল ভাবে নিরুৎসাহিত হয়।
 
ফলে উক্ত গ্যাসের উৎপাদন কমে গেলেও ওজোনস্তরের ক্ষতির পরিমাণ মোটেও কমেনি। ফলে ওজনস্তর ফুটো তৈরিকারী গ্যাস যেমন, সিএফসি, গ্রীণ হাউজ গ্যাস, উৎপাদনে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে, চুক্তি যথাযথ ভাবে মানতে হবে। অন্যথায় আরো ৫০ বছরেও ওজোনস্তরের ফুটো হওয়া বন্ধ করা যাবে না।প্রায় ৮০০ কোটি লোকের বসতি এই পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মকে সঠিকভাবে স্বপ্ন দেখাতে হবে, অধিকার দিতে হবে তাদের সঠিকভাবে নিঃশ^াস ফেলতে, বেঁচে থাকতে, স্বপ্ন দেখতে। কবির ভাষায় বলতে গেলে, ‘মরিতে চাহিনা এই সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে, আমি বাঁচিবারে চাই।’
লেখক : সাংবাদিক-কলেজ শিক্ষক  
[email protected]
০১৭১১-০১০১২১