পুলিশের গাড়িতে লাফানো হেলমেটধারীসহ ছয়জন গ্রেপ্তার

পুলিশের গাড়িতে লাফানো হেলমেটধারীসহ ছয়জন গ্রেপ্তার

নয়া পল্টনে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যারা সবাই ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো যে যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছিল, তিনিও আছেন গ্রেপ্তারদের মধ্যে।

পুলিশ বলছে, মো. এইচ কে হোসেন আলী নামের এই যুবক বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের অনুসারী। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা হোসেন ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী।

গত ১৪ নভেম্বর ওই সংঘর্ষের পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে হোসেন আলীর ছবি দেখিয়ে নাশকতার জন্য আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের দায়ী করেছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছিলেন, “সুপরিকল্পিতভাবে হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে। যারা আগুন দিয়েছে তারা পুলিশের প্রটেকশনে এই নাশকতার কাজ করেছে, এরা ছাত্রলীগ, যুবলীগের মহানগরের নেতা, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।”

পরে এই ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় রিজভীকেও আসামি করেছে পুলিশ। তিনি ছাড়াও মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, আখতারুজ্জামান রঞ্জন, নিপুন রায় চৌধুরীসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নাম রয়েছে মামলাগুলোতে।

হেলমেটধারী হোসেন আলীর সঙ্গে ওই নাশকতার বিভিন্ন ছবিতে আসা পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

অন্যরা হলেন- শাজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূঁইয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্বাস আলী, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জল এবং তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম।

সোমবার বিকালে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করেন মনিরুল। তবে তাদের কারও কারও পরিবার বলছে, কয়েক দিন আগেই ধরে নেওয়া হয়েছে তাদের।

মনিরুল ইসলাম বলেন, “হোসেন আলী কালো শার্ট পরে গাড়িতে উঠে লাফালাফি করছিল। রবিন প্রথমে গাড়িতে আঘাত করেছিল।”

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “পুলিশকে উসকানি দিতেই তারা ওই হামলা করেছিল, যাতে পুলিশ সেখানে নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। সেদিন ওখানে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি।”

এই মামলায় এর আগে নিপুন রায়সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, “যারা ফৌজদারি অপরাধ করেছে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশে কাউকে ধরা হয়নি।”