পুরাতন যন্ত্রাংশ দিয়ে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বানাল ডিপিডিসি

পুরাতন যন্ত্রাংশ দিয়ে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বানাল ডিপিডিসি

রাজধানীর ডেমরা এলাকার মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। চাহিদা অনুযায়ী এমন একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণে খরচ পড়তো আনুমানিক ২০ কোটি টাকা। এছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়া আহ্বান, কাজ শুরু হওয়া, চাহিদা মতো কাজ করে উপকেন্দ্রটি নির্মাণ শেষ হওয়া, সবমিলিয়ে দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

কিন্তু সেসব প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ভিন্ন এক উদ্যোগ গ্রহণ করলো। বিভিন্ন উপকেন্দ্র, স্টোরে পরিত্যক্ত, ব্যবহার না হওয়া সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির খোঁজ করলো তারা।


ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) উদ্যোগ ও নির্দেশে ডিপিডিসির মাঠ পর্যায়ের কর্মী, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্টোর, সাব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরিত্যক্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করলেন। যেসব যন্ত্র বা উপকরণ প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছরের পুরনো। সেগুলো অকশানের জন্য রাখা হয়েছিল।

এই যন্ত্র-উপকরণগুলো সংগ্রহ করে ডিপিডিসির প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব ডিজাইনে এবং ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ডেমরায় নির্মাণ করা হয়েছে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, যাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৩ লাখ টাকা। স্বাভাবিকভাবে এতে খরচ হওয়ার কথা ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা।

ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পড়ে থাকা যন্ত্রগুলো দিয়ে মাত্র তিন মাসেই সফলভাবে স্থাপন করেছেন এই উপকেন্দ্রটি। প্রকৌশলীসহ সংশ্লিস্টরা এসব পুরাতন যন্ত্র, উপকরণ ইন্সটল , মোডিফিকেশন ও ফেব্রিকেশন করেছেন, যার ফলে সফলভাবে এই বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। পুরাতন যন্ত্রাংশ ৩৩/১১ কিলোভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি নির্মাণের ফলে রাষ্ট্রের প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার সাশ্রয়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের সমস্যার সমাধান করা গেছে।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে এই উপকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এই সফলতার পর পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে আরও দুটি উপকেন্দ্র করার কথা ভাবা হচ্ছে। নিজস্ব ডিজাইনে আমাদের প্রকৌশলীরা এটি করেছেন। আমরা কামরাঙ্গীরচর ও মোহম্মাদিয়া স্টিল মিল এলাকায় আরও দুটি এমন সাব কেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করছি। যেসব প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা নতুন এমন উদ্ভাবন করবেন এবং পুরাতন পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে এমন উপকেন্দ্র তৈরি করবেন তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।

অন্যদিকে গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘবে, সেবা পাওয়া আরও সহজ করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। এখন থেকে ডিপিডিসির গ্রাহকরা ঘরে বসেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকরা। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশের মাধ্যমে ডিপিডিসি পরিশোধ করা যাবে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ডিপিডিসি ও বিকাশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এর ফলে, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসির ১২ লাখ পোস্ট পেইড ও প্রিপ্রেইড গ্রাহকরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকেই বিকাশে সহজে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ চেক করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরিশোধ করতে পারবেন বিলও। বিকাশে বিল পরিশোধ করতে অ্যাপের পে-বিল অপশন থেকে ডিপিডিসি নির্বাচন করতে হবে। এরপর ডিপিডিসি কাস্টমার নম্বর দিয়ে, মাস ও সাল নির্বাচন করলে বিলের পরিমাণ দেখা যাবে। বিল পরিশোধ করতে চাইলে পিন নম্বর দিয়ে পরিশোধ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন গ্রাহক। ডিপিডিসির বিল পরিশোধের নতুন এই সেবা চালু হওয়া উপলক্ষে প্রথম ৬ মাস কোনো চার্জ থাকছে না।