পুতুল নাচের ইতি টেনেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা

পুতুল নাচের ইতি টেনেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা

মাশরাফী হিরো : আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিপক্ষের একটি অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগ পুরানো ভাংগা রেকর্ড বাজায়। এছাড়া দলটির তেমন কোন অর্জন নেই। এই কথাটি বলতেন ক্ষমতায় থাকা নেতারা। যারা আন্তর্জাতিক আনুকুল্য নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন। তারা কথায় কথায় উন্নয়নের পঙক্তি পাঠ করতেন। একথাগুলি তারা একারণেই বলতেন কারণ তারা দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকেও খাটো করে দেখতে তারা পিছুপা হতেন না। তারা এটিকে সযতেœ এড়িয়ে যেতেন। ৭৫-এর ১৫ আগস্টকে দুর্ভিক্ষের অপপ্রচার এবং গণতন্ত্রের হত্যার পরিণাম হিসেবে আখ্যায়িত করে বৈধতার লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এটি শুধুমাত্র কোন একটি দল করেছে তা নয়। বরং ৭৫ পরবর্তী সময়ে যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তারাই এ কাজটি করেছে। আওয়ামী লীগ সারা জীবন রাজনীতি করেছে আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছে অন্যরা।

 এটি সম্ভব হয়েছিল বিশ্বব্যাপী মার্কিনীদের অবাধ ক্ষমতার কারণে। তারা দিনকে রাত এবং রাতকে দিন করেছে। হাজারো প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয়নি। জাতিসংঘ ঠুটো জগন্নাথের ভুমিকায় অবতীর্ণ ছিল তাদের বেলায়। যার প্রমাণ ইরাকে হামলা, ইরানের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরাইলকে দিয়ে ফিলিস্তিনিদের উপর বর্বরোচিত হামলা। তারই এক অংশ বিশেষ উদাহরণ হলো বাংলাদেশ। ৭৫-এর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের কত বীরসেনা যে লাঞ্ছিত হয়েছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই।  অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টিই তাদের জন্য জ্বালার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমস্ত বিষয়গুলির পরিবর্তন শুরু হয়েছে ৯৬-এ আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর থেকে। উন্নয়নের যে স্লোগান আওয়ামী লীগ চিরজীবন প্রতিপক্ষের মুখ থেকে শুনেছে তা এখন আওয়ামী লীগই প্রতিপক্ষকে শোনায়। ৯৬-এ ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য-চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, গঙ্গার পানি চুক্তি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের স্বীকৃতি বাংলাদেশকে ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত করেছিল আন্তর্জাতিক পরিম লে।

 জাতিসংঘ কর্তৃক সেরেস পুরস্কার জননেত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন সরকারের একটি বিশেষ  অর্জন। তাছাড়া যে দলটির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ প্রতিপক্ষের সেই দলটি ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল গণতন্ত্রের ইতিহাসে। যদিও ক্ষমতায় আসা দলটি তার বিপরীত আচরণ করেছে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। সারা বাংলাদেশ তখন জঙ্গি হামলায় বিপর্যস্ত। তাদের প্রধান টার্গেট তখন দেশরতœ শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা তার নিকৃষ্টতম  উদাহরণ। বাংলা ভাই, শায়খ রহমানের নেতারা তখন সারা বাংলায় ক্ষমতার নিশান উড়িয়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধীরা তখন ঘরে বসে পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখছিল। বিশৃঙ্খল একটি রাষ্ট্রে তখন সেনা সমর্থিত ওয়ান ইলেভেন সরকারের আগমন।  তাদেরও প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা। তারা শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করলেও যুদ্ধাপরাধীদের টিকিটিও ছোঁয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও একটি মুহূর্তের জন্যও তৎকালীন সরকার তা নিয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এসবের মূল সুতার টান ছিল এক জায়গায়। যার টানে সারা বিশ্ব অসহায়।

 আর বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, সুশীলরা এবং সেনাতন্ত্রের সুবিধাভোগীরা নিজেদেরকে ক্ষমতাবান হিসেবে আস্ফালন করতো সাধারণ মানুষের সামনে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তারা ছিল অত্যন্ত অসহায়। ছোট বেলার সেই পুতুল নাচের কথা মনে পড়ে যায়। পুতুলের যেমন কিছু করার থাকে না, তেমনি এদেরও কিছু করার ছিল না। পুতুল নাচ-ই এদের কাজ। আর এই পুতুল নাচের ইতি টেনেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিদের দমন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার যেমন রাজনৈতিক আদর্শ ফিরিয়ে এনেছে তেমনি উন্নয়নের সোপান বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিস্ময়কর উন্নয়নের দেশ। তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আজ অনুকরণীয় উদাহরণ।

 বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ আজ সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচিত করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রমাণ দিচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাংলাদেশকে দৃঢ়চেতা হতে সহযোগিতা করেছে। তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। যা অনেকে ভাবেননি, চিন্তা করেননি এবং মেনে নিতে পারেন না। যার স্বপ্ন দেখেছিলেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার কারণে ৩০ লক্ষ মানুষের আত্মাহুতি। আজ এই অসাধ্য সাধন করেছেন জাতির পিতার কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা। যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল ১৯৮১ সালের ১৭ই মে। তার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের স্মরণীয় এই মুহূর্তে তাঁর এই অর্জনগুলি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে বহুদিন-বহুবছর।লেখক: উপ-দপ্তর সম্পাদক, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ। -০১৭১১-৯৪৪৮০৫