পুণ্যভূমি সিলেটে অধরা জয়ের দেখা পাবে খুলনা?

পুণ্যভূমি সিলেটে অধরা জয়ের দেখা পাবে খুলনা?

শেষ হয়েছে বিপিএলের ঢাকা পর্বের প্রথম অংশের খেলা। সাত দিনে হওয়া মোট ১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫ ম্যাচ খেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স, সবচেয়ে কম ৩ ম্যাচ খেলেছে সিলেট সিক্সার্স। বাকি ৫ দলের সবাই খেলেছে ৪টি করে ম্যাচ। ঢাকা পর্বের প্রথম অংশে অন্তত ১টি করে ম্যাচ জিতেছে ৬টি দল, জেতেনি শুধু একটি দল।

চাতক পাখির মতো এখনো একটি জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটানস। ঢাকায় নিজেদের প্রথম চার ম্যাচের একটিতেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি খুলনা। আগামী পাঁচদিনের জন্য বিপিএল চলে গিয়েছে দেশের পুণ্যভূমি সিলেটে। যেখানে অন্য সব দলের চেয়ে বেশি ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় চেয়ে থাকবে খুলনাই।

বিপিএলের গত আসরে সিলেট দিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল টুর্নামেন্টের। সেবার চারদিনের জন্য সিলেট গিয়েছিল দলগুলো। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনই তখনকার চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা ডায়নামাইটসের মুখোমুখি হয়েছিল খুলনা, হেরে গিয়েছিল ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে। তবে একদিন বাদে স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের জয়ের যাত্রা শুরু করতে পেরেছিল মাহমুদউল্লাহর।

এবার চারটি ম্যাচডে'র সঙ্গে একদিন বিরতিসহ মোট ৫ দিনের সিলেট যাত্রা সবদলের। যেখানে তিনটি ম্যাচ খেলবে খুলনা টাইটানস। সিলেট পর্বের প্রথম দিনেই (মঙ্গলবার) আসরের চমক জাগানিয়া দল রাজশাহী কিংসের মুখোমুখি হবে তারা। তরুণ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের অধীনে এখনো পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে ২টিতে জিততে পেরেছে রাজশাহী।

তারূণ্যনির্ভর রাজশাহীকে হারিয়েই আসরে নিজেদের প্রথম জয়টি তুলে নিতে হবে খুলনাকে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নিজেদের পারফরম্যান্সের কাটাছেঁড়া করলে জয়ের সাহস জোগাতে বেশ বেগ পেতে হবে দলটিকে। কেননা ৪টি ম্যাচে হারলেও মাঠের খেলায় খুব একটা খারাপ করেনি খুলনা। প্রায় কাছাকাছি লড়াই করেছে দুইটি ম্যাচে, জিততে জিততে হেরে গিয়েছে একটি ম্যাচে।

গত আসরের ন্যায় এবারও নিজেদের প্রথম ম্যাচটি গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে খেলেছে খুলনা। রিলে রুশোর ফিফটিতে রংপুর করেছিল ১৬৯ রান। যা তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনারের ব্যাটে ১১ ওভারেই ৯০ রান করে ফেলেছিল খুলনা। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ভয়াবহ ব্যর্থতায় সেদিন ৮ রানের পরাজয় বরণ করতে হয় খুলনাকে।

পরের ম্যাচে তাদের সামনে আসে আরেক শক্তিশালী দল ঢাকা ডায়নামাইটস। এ ম্যাচে রীতিমতো উড়েই গিয়েছিল খুলনা। ঢাকার করা ১৯২ রানের জবাবে তাদের ইনিংস থেমেছিল মাত্র ৮৭ রানে। পরের ম্যাচে তুলনামূলক দূর্বল রাজশাহী কিংসের বিপক্ষেও ঝড়ো শুরু এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার পল স্টার্লিং এবং জুনায়েদ সিদ্দিকী।

কিন্তু আবারও ব্যর্থ হয় পরের ব্যাটসম্যানরা। ফলে মাত্র ১১৭ রানেই থেমে যায় দলীয় ইনিংস। পরে অধিনায়ক মেহেদি মিরাজের ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় রাজশাহী। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে জয়ের দারুণ সুযোগ পেয়েছিল খুলনা, কিন্তু সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

ডেভিড মালান এবং অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ১৫১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় খুলনা। যা তাড়া করতে নেমে বেশ পিছিয়েই পড়েছিল চিটাগং। কিন্তু শেষ ওভারে ১৯ রানের প্রয়োজনে খুলনার পেসার আরিফুল হক ৩ ছক্কা হজম করলে টাই হয়ে যায় ম্যাচ। পরে সুপার ওভারে মাত্র ১ রানের জন্য হেরে যায় খুলনা।

চার ম্যাচে হারের গ্লানি নিয়ে সিলেটে পাড়ি জমিয়েছে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। প্রতিপক্ষ তৃতীয় ম্যাচের দল রাজশাহী কিংস। সে ম্যাচে তাদের বিপক্ষে খেলে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনার অনেকটাই বুঝে যাওয়ার কথা খুলনার। সে ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিলেটের মাটিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি জিতলে আসরে নিজেদের প্রথম জয়ের পাশাপাশি রাজশাহীর বিপক্ষে প্রতিশোধও নেয়া হবে খুলনার।