পীরগঞ্জে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই আটক

পীরগঞ্জে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই আটক

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ৮ হাজার পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজাসহ ঠাকুরগাঁও কোর্ট পুলিশের এসআই হেলাল উদ্দিন প্রামানিক ও পীরগঞ্জ থানার ঝাড়–দার মানিককে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার দুপুরে পীরগঞ্জ থানার একটি পরিত্যাক্ত কোয়াটারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আসাদ মো: মাহফুজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগাও গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম পীরগঞ্জ থানার একটি পরিত্যক্ত কোয়াটারে অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও কোর্টে পুলিশের এসআই হেলাল ও পীরগঞ্জ থানার ঝাড়–দার মানিককে ৮ হাজার পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজাসহ হাতে নাতে আটক করে। এস আই হেলাল থানার ঐ পরিত্যক্ত বাসায় বসবাস করতেন। ওই পুলিশ অফিসারসহ দু’জনকে আটকের পর পীরগঞ্জ থানায় নেয়া হয়। সেখানে অটক করা ইয়াবা ও গাঁজা সিজার লিষ্ট করে পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে গোয়েন্দা পুলিশ। পীরগঞ্জ থানা সুত্র জানায়, এস আই হেলাল প্রায় ৩ বছর ধরে পীরগঞ্জ থানায় কর্মরত থেকে ২ মাস আগে পীরগঞ্জ সার্কেল অফিসে যোগদান করেন। গত সপ্তাহে তিনি ঠাকুরগাও কোর্টে এসআই হিসেবে বদলি হয়েছেন।

 পীরগঞ্জে কর্মরত থাকা থাকালে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারে পুলিশের সোর্সের কথা বলে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে থানার ঝাড়–দারকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশের গোয়ান্দা শাখা মাদক সংক্রন্ত অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই তিনি মাদক ব্যবসা করতেন বলে সুত্র জানায়। পুলিশের লোক হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।  সম্প্রতি থানার ঝাড়–দার মানিক ঐ দারোগার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল নিয়ে মাদক সরবরাহের জন্য রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বায় গেলে সেখানে আটক হন। পরে অনেক দেনদরবার করে বিষয়টি ধামা চাপা দেন ঐ দারোগা। এতে সোচ্চার হয় গোয়েন্দা সংস্থা। তারা মাদক সহ তাদের হাতে নাতে ধরতে সুযোগ খুজতে থাকেন। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সফল হন তারা। পীরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ বলেন, থানায় কর্মরত থাকাকালে ঐ দু’জনের বিরুদ্ধে দু’একটি অভিযোগ পান। এরজন্য তাদের সতর্কও করেন কিন্তু তারা ভাল হয়নি। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছেন। তারা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।