পীত জ্বর ঠেকাতে ব্রাজিলে জরুরি অবস্থা

পীত জ্বর ঠেকাতে ব্রাজিলে জরুরি অবস্থা

করতোয়া ডেস্ক : ব্রাজিলে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া মশাবাহিত রোগ পীতজ্বর (ইয়েলো ফিভার) ঠেকাতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস গেরাইস প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনাস প্রদেশ ও তার আশেপাশের এলাকায় এখন পর্যন্ত ৪৭৫ জনের দেহে এ রোগের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে  ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পীতজ্বরে আক্রান্ত অনেকেরই এর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর আগে ২০০০ সালে ৮৫ জনের দেহে এ রোগের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়। এই গত ডিসেম্বরে ১৫ জন মানুষ মারা গেছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের রাজধানীসহ বিলো হরিজনট এলাকায় বেশ কিছু জায়গার মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছে পীত জ্বরে। জ্বরের প্রতিকার হিসেবে গণমুখী কিছু কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনটি ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে শুধু রিউ এবং সাও পাওলোতে ক্লিনিকগুলিতে এই ভ্যাকসিনগুলো পাওয়া যাবে। প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস এবং অন্য শহরগুলোতে ভ্যাকসিনের জন্য লম্বা লাইন দেখা গেছে। সম্ভাব্য পর্যটকদের আগে থেকেই ব্রাজিল ভ্রমণে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডব্লিউএইচও সুপারিশ করে, সাও পাওলো ভ্রমণকারীরা ব্রাজিলে প্রবেশের আগেই যেন এই ভ্যাকসিন পান।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের জন্য স্বাস্থ্য সেবায় জরুরি অবস্থার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা উপকরণ কেনার অনুমতি দিয়েছে। পীতজ্বর মূলত মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়। প্রাথমিক অবস্থায় তীব্র জ্বর, চোখ ও শরীর হলুদ হয়ে যাওয়া, মাংসপেশী ও মেরুদণ্ডে ব্যথা, মাথা ব্যথা, খাবারে অরুচি, বমিভাবসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। আগাম ভ্যাকসিন নেয়া ও সঠিক সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে তা না হলে পরবর্তী অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তির কিডনি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।