পাহাড়ে ফের রক্তপাত

পাহাড়ে ফের রক্তপাত

রাঙামাটির নানিয়াচর আবারও রক্তাক্ত হয়েছে শুক্রবার। এদিন ভোরে এ উপজেলার রামু সুপারি পাড়ায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে যুদ্ধমোহন চাকমা ওরফে আকর্ষণ (৪২) ও শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে সুমন্ত নামের দুই ব্যক্তিকে। নিহতরা পাহাড়ি সংগঠন জেএসএসের (সংস্কার পন্থি) কর্মি হিসেবে পরিচিত। শুক্রবার ভোরে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল রাম চকসুপারিপাড়ার যখন হামলায় চালায় যুদ্ধ মোহন চাকমা ও শ্যামল কান্তি চাকমা নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে, এরপর তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। ফলে দু’জন নিহত হন ঘটনাস্থলেই। এ ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে লাশ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি এম এল লারমাপন্থি জেএসএস ত্যাগ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে (ইউপি ডিএফ) যোগ দিয়েছিলেন আকর্ষণ চাকমা ও শ্যামল কান্তি চাকমা।

নিহতদের পরিবারের দাবি এ ঘটনার জের ধরেই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্ত পরিস্থিতি তিন পার্বত্য জেলা শুধু নয়, সারা দেশের মানুষের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, আইন শৃঙ্খলার এ বিসংবাদের প্রায় প্রতিটি ঘটনার পেছনে পার্বত্য চট্টগ্রামের চার সশস্ত্র পাহাড়ি সংগঠনের কোনো না কোনো কোনটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রতিটি পাহাড়ি রাজনৈতিক সংগঠনের হাতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় পাহাড়ি বাঙালি নির্বিশেষে প্রায় সব মানুষই তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর আশা করা হয়েছিল পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে। শান্তি চুক্তির আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ও বিজিবি ক্যাম্প ছিল সাড়ে পাঁচশ’র বেশি। চুক্তির পর দুর্গম পার্বত্য এলাকা থেকে ৩৩৪টি ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারকে নিজেদের যথেচ্ছতা প্রকাশের সুযোগ হিসেবে দেখছে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা। এ হঠকারিতা বন্ধে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিতে হবে উদ্যোগ। এই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী অপশক্তি এদের নির্মূল করতে হবে।