পাসের হারে মেয়েরা, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছেলেরা

পাসের হারে মেয়েরা, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছেলেরা

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। সেই অনুযায়ী এবার পাসের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ৩২৪ জন।

এবার পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে। মেয়েদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৭১০ জন। অন্যদিকে ছেলেদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ হাজার ৫৭৬ জন। অর্থাৎ মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা পাসের হারে পিছিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফল হস্তান্তরের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর দুপুর দেড়টা থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এবং যেকোনো মোবাইল থেকে এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলফল জানা যাচ্ছে।

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৮ হাজার ৯৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মে। এরপর ১২ মে থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়।

এইচএসসি ও সমমানের সব কয়টি বোর্ডে পাস করেছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন শিক্ষার্থী। তার মধ্যে সাধারণ ৮টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৮০৭ জন। যা গত বছর ছিল ৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৮ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ৫৬২ জন। সেই হিসেবে এবার জিপিএ-৫ ও পাসের হার বেড়েছে।

সাধারণ ৮টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে এগিয়ে কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ, পাস করেছে ৭৩ হাজার ৩৫৮ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭১ জন শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, পাস করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৫০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭২৯ জন।

তৃতীয় অবস্থানে যশোর বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, পাস করেছে ৯৫ হাজার ৪৯৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৩১২ জন। চতুর্থ অবস্থানে দিনাজপুর বোর্ড। পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, পাস করেছে ৮৯ হাজার ২৩৩ জন। পঞ্চম ঢাকা বোর্ড। পাসের হার ৭১ দশমিক ০৯ শতাংশ, পাস করেছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ১৮৭ হাজার জন।

ষষ্ঠ অবস্থানে বরিশাল বোর্ড। পাসের হার ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, পাস করেছে ৪৪ হাজার ৮৮৭ জন, জিপিএ-৫ ১ হাজার ২০১ জন। সপ্তম অবস্থানে সিলেট বোর্ড। পাসের হার ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, পাস করেছে ৫১ হাজার ১২৪ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৪ জন এবং অষ্টম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ, পাস করেছে ৬১ হাজার ৫২৩ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৬০ জন।

মাদরাসা বোর্ডে এ বছর পাস করেছে ৭৬ হাজার ৩৮১ জন, পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন। পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার হাজার ২৩৬ জন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এইচএসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষকদের কঠোর প্রচেষ্টার কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলাফল প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস ছাড়াই এবার এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও সম্পূর্ণ পেপারলেস ফল প্রকাশিত হচ্ছে। বোর্ড কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানায় নির্ধারিত সময়ে ফল পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে। তবে শুধু পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়লে ভালো মানুষ তৈরি হয় না। শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণে গুণান্বিত হতে হবে। নীতি নৈতিকতা নিয়ে বেড়ে হতে হবে। স্বদেশ প্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এদিকে কেউ পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ৪১টি। গত বছর ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। অন্যদিকে এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯০৯টি, গত বছর যা ছিল ৪০০টি।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার বিদেশের কেন্দ্রের পাসের হার ৯৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮টি কেন্দ্র থেকে ২৭০ জন পরীক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশের কেন্দ্রেও পাসের হার বেশি। গত বছর বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে পাসের হার ছিল ৯২.২৮। গত বছর ২৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ২৬৩ জন।