পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি

পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি

চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখানকার দুই পাসপোর্ট অফিস পাঁচলাইশ ও মনসুরাবাদে প্রতিদিন জমা পড়ছে কয়েকশ’ পাসপোর্টের আবেদন।


চকবাজারের বাসিন্দা সায়েম উদ্দিনের মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসা করাতে চেন্নাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্বজনরা। ভারতে যাওয়ার জন্য জরুরী ফি জমা দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট হাতে না আসায় ভোগান্তি পোহাতে হয়।

...নিয়ম অনুযায়ী, জরুরী পাসপোর্ট সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র তার উল্টো। কয়েক মাস ধরে পাসপোর্ট অফিসের এমন ধীরগতির কারণে আবেদনকারীরা বিরক্ত।

জানা গেছে, সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত ২১ কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকদের পাসপোর্ট সরবরাহ করার নিয়ম থাকলেও দেড় থেকে দুই মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। জরুরি ক্যাটাগরিতে ৬ হাজার ৯০০ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকরা পাসপোর্ট পাওয়ার কথা থাকলেও এক মাসেরও বেশি সময় লাগছে।

পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক মাসুম হাসান বলেন, পাসপোর্টের আবেদন পাওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু ঢাকা থেকে পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে তা চট্টগ্রামে আসতে একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে।

...জানা যায়, আগে যে সংখ্যক পাসপোর্ট প্রিন্ট হতো, বর্তমানে তার সংখ্যা কমেছে। নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ায় প্রায়ই আবেদনকারীদের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।

জানান, প্রতিদিন দুটি অফিসে নতুন পাসপোর্ট তৈরিসহ নবায়নের জন্য কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে। আবেদনগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে চট্টগ্রামে আসার পর পাসপোর্ট আবেদনকারীকে দেওয়া হয়।

...মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, প্রিন্টারের সমস্যার কারণে পাসপোর্ট ডেলিভারির জট সৃষ্টি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা সন্দেহে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে আটকে যায় ১৫৪ জনের আবেদন। এর মধ্যে ৩৫ জনকে রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এর কয়েকদিনের মাথায় ৩জন রোহিঙ্গা ও ১জন সহযোগীকে হাতেনাতে আটক করে থানায় দেওয়া হয় এবং বাকিদের ব্যাপারে দুদককে তদন্তে সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক আবু সাইদ।

...তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গা সন্দেহে কয়েকজনের আবেদন ফরম আটকে দেওয়া হয়েছে। ওইসব আবেদনের সঙ্গে যুক্ত আছে জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত কপি, ইউপি চেয়ারম্যানের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তাদের সব কাগজপত্রই দুদকে জমা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ও দালাল পেলে আটক করে পুলিশে দেওয়া হচ্ছে, ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে পাসপোর্ট অফিস।