পার্বত্য এলাকায় রক্তপাত

পার্বত্য এলাকায় রক্তপাত

ফের রক্ত ঝরল পাহাড়ে। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে গত সোমবার দুজনকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারীরা। নিহতরা হলেন মংসিনু মারমা স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মোঃ জাহিদ হোসেন। মংসিনু পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন সংস্কারপন্থি জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-এমএন লারমা) কর্মি। এনিয়ে এক সপ্তাহে জেলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি লংদুতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংগঠক পবিত্র চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনায় সংস্কার পন্থি জেএসএস এমএন লারমা ও গণতান্ত্রিক ইপিডিএফকে দায়ী করেছে মূল সংগঠন ইউপিডিএফ। মূলত এসব সংগঠন পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত। আমরা মনে করি, শান্তি চুক্তির সুফলকে পার্বত্য এলাকাবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অবসান ঘটাতে হবে।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিজেদের হীনস্বার্থে পার্বত্য জেলাগুলোতে সংঘাত জিইয়ে রাখছে। পর্যটন ক্ষেত্রে পার্বত্য এলাকার সম্ভাবনা অসীম। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হলে ওই এলাকার অধিবাসীদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। জানা যায়, শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর থেকে পক্ষ-বিপক্ষের সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে হাজারেরও বেশি মানুষ। অভিযোগ আছে, অনেক দুর্গম এলাকায় এখনো সন্ত্রাসীরা প্রায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, নানাভাবে চাঁদাবাজি করে এবং গুম-অপহরণের ঘটনাও ঘটায়। তাদের অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। অবিলম্বে সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। সন্ত্রাসে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পাহাড়ে রক্তপাত অব্যাহতভাবে চলতে দেওয়া যায় না।