পারস্পরিক সালাম সর্বোত্তম অভিবাদন

পারস্পরিক সালাম সর্বোত্তম অভিবাদন

আলহাজ¦ হাফেজ মাও: মুহাম্মদ আজিজুল হক : সালাম শান্তির অভিবাদন ও সর্বাপেক্ষা উত্তম সম্ভাষণ। সালাম দেয়া মানে তুমি সর্বপ্রকার কষ্ট ও বিপদ আপদ থেকে নিরাপদ থাক বলা। সালামের মাধ্যমে মুসলমান ভাইয়ের প্রতি ভালবাসার যথার্থ হক ও সম্প্রীতি প্রকাশ করা এবং সর্বোত্তম দোয়া করা হয়। মহান আল্লাহ অন্যের গৃহে প্রবেশের পূর্বে সালাম ও কুশলবিনিময় করতে বলেছেন। ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে প্রবেশ কর না, যে পর্যন্ত আলাপ পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদের সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যাতে করে তোমরা স্মরণ রাখ (সূরাঃ নূর, আয়াত-২৭) সালাম যেমনি শুভেচ্ছাবাণী ও দোয়া, তেমনি বিনয় ও ভদ্রতার প্রতীক। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর পরস্পরকে ভালবাসা ছাড়া তোমাদের ঈমান পূূর্ণতা লাভ করবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলে দিব না, যা করলে তোমাদের পারস্পারিক ভালবাসা বৃদ্ধি হবে? সাহাবিগণ বললেন, অবশ্যই বলুন। মহানবী (সাঃ) বললেন, সেটি হলো নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি সালামের প্রচলন করবে। (মুসলিম) জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন মুসলমান উত্তম? তিনি বললেন, যে মুসলমান পরিচিত-অপরিচিত সকলকেই সালাম দেয় এবং মানুষকে খানা খাওয়ায়।

(বুখারি) অন্য হাদিসে আছে, রাসূল (সাঃ) রাস্তায় চলার হক আদায় করতে বলেছেন। তাহলঃ চক্ষু হেফাজত করা, কষ্টদায়ক বস্তু পথ থেকে সরিয়ে ফেলা, সালামের উত্তর দেয়া, ভাল কাজের আদেশ করা এবং খারাপ কাজ করা থেকে নিষেধ করা। (মিশকাত) নবীজি (সাঃ) সালামের এত তাগিদ করেছেন যে, তোমাদের কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে দেখা হলে প্রথমে সালাম করবে। এরপর যদি উভয়ের মাঝখানে কোন গাছ, দেয়াল কিংবা পাথরের আড়াল হয়, অতঃপর আবার দেখা হয় তাহলে পুনরায় সালাম করবে। (আবু দাউদ) ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দেয়া। শুরুতে ‘আস’ এবং মাঝখানে ‘মু’ কে সুস্পষ্ট করে বলা। কিন্তু আফসোস সাধারণ মানুষ তো বটেই, হযরত আলেমগণ পর্যন্ত এদিকে কোন খেয়াল-ভ্রুক্ষেপ করেন না। সালাম যেহেতু সুন্দর একটি দোয়া তাই অত্যন্ত সুন্দর করে উচ্চারণ করা চাই। অশুদ্ধভাবে সালাম দিলে যেমনঃ ‘সালামালাইকুম’ বললে অর্থ বিগড়ে যায়। আর ‘সামু আলাইকুম’ বললে অর্থ হয় তোমার মৃত্যু হোক! ভাবুন, অশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করায় কিভাবে অর্থ বিকৃত হয়ে দোয়ার পরিবর্তে বদ-দোয়া হয়ে যায়। ‘আসসালামু আলাইকুম’ মানে আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এই অর্থ বুঝে যদি সালাম আদান-প্রদান করা হয় তবে অবশ্যই উভয়ের মধ্যে মুহাব্বত সৃষ্টি হবে, দূর হবে হিংসা-ক্রোধ।

সালাম প্রদানকারী যদি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে, উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলা উত্তম। আর যদি সালাম দাতা বলে, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’, জবাবে আরও একটু শব্দ বৃদ্ধি করে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ’ বলা উত্তম। কেননা কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর, তার চেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত প্রত্যার্পণ কর”। (সূরা নিসা, আয়াত ৮৬) কিন্তু ‘ওয়া বারাকাতুহ’- এরপরে ‘ওয়া মাগফিরাতুহ ওয়া জান্নাতুহ’ প্রভৃতি শব্দ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়, তাই এ জাতীয় শব্দগুলো পরিত্যাজ্য। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আদমকে সৃষ্টি করে বললেন, হে আদম! তুমি তোমার সামনে বসে থাকা ফেরেশতাদেরকে সালাম প্রদান কর এবং তারা জবাবে কি বলে তা খেয়াল কর। তারা যা বলে তোমাকে জবাব দিবে,সেটাই হবে তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন। তখন আদম আঃ তাদের কাছে গিয়ে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’। ফেরেশতাগণ তার সালামের জবাবে বললেন, ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। (মুসলিম) সালামের মাধ্যমে সৌহার্দ্যতা-হৃদ্যতা বাড়ে এবং বরকত লাভ হয়।
রাসূল সাঃ আনাছ (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেন, হে ছেলে! যখন তুমি ঘরের লোকদের কাছে যাও, তখন সালাম কর। এতে তোমার ও তোমার পরিজনদের জন্য কল্যাণ হবে। যে ব্যক্তির মাঝে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা, ছোট বড় সকলের প্রতি সালাম দেয়া এবং স্বল্প সংগতি সত্ত্বেও সৎকাজে ও অভাবগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা এই তিনটি বিষয় পাওয়া যাবে, নবীজি (সাঃ)বলেন, তার মাঝে ঈমানের সব স্তরই পাওয়া যাবে। (বুখারী)  হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সবচেয়ে বড় কৃপণ সেই, যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে। আর পরিপূর্ণ সালাম হলঃ সালাম দেয়ার পর মুসাফাহা করা। (মিশকাত)
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক-ইসলামী গবেষক
০১৭৩৪-৭১৮৩৬০