পানির স্তর নামছেই

পানির স্তর নামছেই

আগামী দিনে পানি সংকট মোকাবিলায় সব দেশকে পানি নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলো এখনই চিহ্নিত করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলেছে, পৃথিবীর ৩৭টি বৃহৎ পানির স্তরে মধ্যে ২১টির পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ স্তরগুলোর অবস্থান ভারত ও চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সীমানার মধ্যে। নাসা ১৩টি স্তরকে আখ্যায়িত করেছে চরম সংকটাপন্ন হিসেবে যেগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। পানির স্তর নিচে নামার বিপদ থেকে নদ-নদীর দেশ বাংলাদেশও মুক্ত নয়। সারা দেশেই পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যে পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে তার প্রধান কারণ উজানে পানি প্রত্যাহারের ঘটনা। নদ-নদীর পানির ধারণ ক্ষমতা হ্রাসও এ বিপদের জন্য দায়ী। আবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর ভূ-গর্ভের পানির স্তর দুই থেকে পাঁচ মিটার করে নিচে নামছে।

খাবার পানি, রান্না, গোসল, সেচসহ সব কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। সুপেয় ও চাষাবাদের পানির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। সুপেয় ও চাষাবাদের পানির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে। ১৯৬৮ সালে যখন বাংলাদেশে ডিপটিউবওয়েল বসানো শুরু হয়, তখন সর্বোচ্চ ৫০ ফুট নিচে টিউবওয়েল বসিয়েই পানি পাওয়া যেত। এখন ১৬০ ফুট বসিয়েও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। জীবন বাঁচাতে, কৃষি বাঁচাতে, পরিবেশ বাঁচাতে তাই পানি ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর কোন বিকল্প নেই। দুনিয়া জুড়ে এখন পানি ব্যবস্থাপনাকে এখন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পানির অপচয় রোধ এবং অতিরিক্ত পানি প্রয়োজনের সময় কাজে লাগাবার জন্য পানি সংরক্ষণাগার সহ যে সব কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি জাতীয় স্বার্থেই আন্তরিকতার সাথে তা গ্রহণ করা হবে বলে আমরা আশা করি।