পাট-চামড়া রফতানিতে খরা

পাট-চামড়া রফতানিতে খরা

গুরুত্বপূর্ণ পণ্য চামড়া ও পাটের রফতানি খরা কিছুতেই কাটছে না। এক সময়ের প্রধান রফতানি পাটের বাণিজ্যে চলছে চরম দুর্দিন। আড়াইবছর টানা কমছে রফতানি। চলতি অর্থবছরের গেল ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আগের একই সময়ের তুলনায় পাট ও পাটপণ্যের রফতানি কমেছে ২২ শতাংশে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হাল নাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গেল ১০ মাসে প্রায় সব ধরনের পাট পণ্যের রফতানি কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে পাটের বস্তার ৩৪ শতাংশ, পাটের সুতার ২৪ শতাংশ ও কাঁচা পাট রফতানি কমেছে ২৪ শতাংশে। সব পাটপণ্যের এরকম হতাশাজনক চিত্রের কারণে আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে রফতানি কম হয়েছে ২০ কোটি ৬ লাখ টাকা। সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, নানা কারণে পাট পণ্যের উৎপাদন খরচ বেশি। আছে শ্রম, আর আন্তর্জাতিকভাবে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে পাটপণ্যের মূল বাজার ভারতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের পর থেকেই খাতটি ধুঁকছে। পাটের কিছু সুতা অন্যান্য দেশে রফতানি হলেও চট বস্তা এবং অন্যান্য পাটপণ্য বলতে গেলে ভারতেই রফতানি হয়।

ভারতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। আইনগতভাবে এগোনোর পথ খোলা আছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে দুর্বলতার কারণে ক্রেতারা এ দেশ থেকে চামড়া পণ্য নিতে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন। চামড়া ও চামড়াপণ্য রফতানিতে বড় বাধা পরিবেশ দূষণ, বিশেষ করে হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তরের পরও সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) অকার্যকর থাকায় পরিবেশ ইস্যুতে ক্রেতাদের বড় ধরনের আপত্তি আছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এ সমস্যা থাকবে না। কুটনৈতিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করে ভারতের অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক রোহিত করা খুবই জরুরি-রপ্তানির স্বার্থেই এটা করা প্রয়োজন।